কক্সবাজারের সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত চকরিয়া, পেকুয়া ও নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার ৫ হাজার পরিবারের মাঝে পর্যায়ক্রমে খাদ্য সহায়তা বিতরণ করছে আইএসডিই বাংলাদেশ (ISDE Bangladesh)। এর অংশ হিসেবে সোমবার (২৭ জুলাই) চকরিয়া উপজেলার পশ্চিম বড় ভেওলা ইউনিয়নের ৫০০টি বন্যাকবলিত পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
সৌদি আরবের কিং সালমান হিউম্যানিটারিয়ান এইড অ্যান্ড রিলিফ সেন্টার (KSrelief)-এর অর্থায়নে আইএসডিই বাংলাদেশ এ মানবিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। আয়োজকরা জানান, সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত নিম্নআয়ের ও অসহায় পরিবারগুলোর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্যায়ক্রমে এই সহায়তা বিতরণ করা হচ্ছে।
প্রতিটি পরিবারকে ১০ কেজি চাল, ৭ কেজি ডাল, ৩ লিটার সয়াবিন তেল, ৩ কেজি চিনি এবং ১ কেজি লবণ সম্বলিত একটি পূর্ণাঙ্গ খাদ্য প্যাকেজ দেওয়া হয়। আয়োজকদের মতে, এই সহায়তা বন্যাদুর্গত পরিবারগুলোর তাৎক্ষণিক খাদ্যসংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
পশ্চিম বড় ভেওলা ইউনিয়নে আয়োজিত খাদ্য বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আখতারুজ্জামান ও মো. শহিদুল ইসলাম, বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও সমাজসেবক হেফাজতুর রহমান, আব্দুর রহিম, মো. বোরহান উদ্দিন এবং সমাজকর্মী মনসুর উদ্দিন আহমেদ।
আইএসডিই বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রকল্প সমন্বয়কারী মো. জাহাঙ্গীর আলম এবং উপজেলা ম্যানেজার মো. জালাল উদ্দিন।
প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, “সাম্প্রতিক বন্যায় অনেক পরিবার চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছে। এমন সময়ে এই খাদ্য সহায়তা তাদের জন্য বড় ধরনের স্বস্তি নিয়ে এসেছে। এ মানবিক উদ্যোগের জন্য আইএসডিই বাংলাদেশ ও দাতা সংস্থাকে ধন্যবাদ।”
আইএসডিই বাংলাদেশের প্রকল্প সমন্বয়কারী মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের সামাজিক ও মানবিক দায়িত্ব। স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতায় প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কাছে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে ৫ হাজার পরিবারের সবাইকে এ সহায়তা দেওয়া হবে।”
খাদ্য সহায়তা পেয়ে উপকারভোগীরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, বন্যায় অনেক পরিবারের ঘরবাড়ি ও জীবিকা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই খাদ্য সহায়তা তাদের পরিবারের জন্য বড় সহায়তা হিসেবে কাজ করছে এবং কয়েক দিনের খাদ্যসংকট কাটিয়ে উঠতে সহায়ক হবে।
এর আগে আইএসডিই বাংলাদেশ দুর্গম এলাকার স্থানীয় জনগোষ্ঠী, বন্যাকবলিত এলাকা এবং রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে প্রায় ৫৮ হাজার ৫০০ উপকারভোগীর মধ্যে খাদ্য সহায়তা বিতরণ করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, দুর্যোগ ও মানবিক সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।