জবাবদিহিমূলক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে তোলাই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য : আইনমন্ত্রী

অতীতের লুটপাট ও অর্থ পাচারের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে তোলাই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য।
রবিবার (২৬ জুলাই) সকালে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে নবীন আইনজীবীদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে বিচার বিভাগ, আইনজীবী ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। নতুন প্রজন্মের আইনজীবীদের প্রতি আহŸান, তারা যেন দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান নেন এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় নিজেদের মেধা, সততা ও পেশাগত দক্ষতা কাজে লাগান। এজন্য সমাজের প্রতিটি স্তরে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তোলার বিকল্প নেই।
টাইম ম্যাগাজিনের একটি প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে আইনমন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারের সময়ে উন্নয়ন প্রকল্পের নামে রাষ্ট্রীয় অর্থ লুটপাট করা হয়েছে এবং সেই অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে। টাইম ম্যাগাজিনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- গত ১৬ বছরে বাংলাদেশ থেকে ডকুমেন্টেড উপায়ে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার অবৈধ অর্থ পাচার হয়েছে।
এটি আমার তথ্য নয়, বিশ্বখ্যাত একটি সাময়িকীর প্রকাশিত তথ্য। অর্থাৎ প্রতি বছর গড়ে প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার বিদেশে চলে গেছে। এই অর্থ বিভিন্ন দেশের ব্যাংক এবং সম্পদে বাংলাদেশি পরিচয়ে বিনিয়োগ করা হয়েছে। শুধু অর্থ পাচারই হয়নি, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের নামেও ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার কাজ কাগজে-কলমে দেখানো হলেও বাস্তবে কোনো কাজ হয়নি। শুধু একটি প্রকল্প নয়, এ ধরনের অসংখ্য প্রকল্পের অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে। আরও কত কোটি টাকার কাজ যে বেগমপাড়ায় গেছে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সম্পদ গড়তে ব্যবহার হয়েছে, তার কোনো সঠিক হিসাব নেই। চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সহ-সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নজরুল ইসলামের সঞ্চালনায় ও সমিতির সভাপতি তারিক আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মঈনুদ্দীন। বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রামের জেলা ও দায়রা জজ কাজী আবদুল হান্নান, মহানগর দায়রা জজ মো. হাসানুল ইসলাম, চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এ.জি.এম. মনিরুল হাসান সরকার, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সোহাগ তালুকদার, জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা এবং বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের অ্যাডহক কমিটির সদস্য মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন চৌধুরী।