ফটিকছড়িতে চলছে হরতাল ও পাল্টা সমাবেশ

নবগঠিত ৫০১ তম প্রশাসনিক উপজেলা ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ সদর দপ্তর যৌক্তিক ও মধ্যবর্তী স্থানে স্থানান্তরের দাবিতে উপজেলার বাগানবাজার, দাঁতমারা ও নারায়ণহাট ইউনিয়নে রবিবার (২৬ জুলাই) সকাল ৬টা থেকে ৪৮ ঘণ্টার হরতাল ও সড়ক অবরোধ চলছে। একইদিন সকালে অপর একটি পক্ষ সরকারি গেজেট অনুযায়ী নির্ধারিত স্থানেই সদর দপ্তর বহাল রাখার দাবিতে পাল্টা প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দিয়েছে এবং হরতাল কর্মসূচিকে ‘উন্নয়ন পরিপন্থী নৈরাজ্য’ বলছে। হরতালের কারণে ঢাকা-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়ক এবং বারইয়ারহাট-হেয়াঁকো-ফটিকছড়ি সড়কে সব ধরনের দূরপাল্লার ও স্থানীয় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
আন্দোলনকারীরা জানান, সরকার ঘোষিত বর্তমান স্থানটি প্রশাসনিক কাজের জন্য সীমান্ত সংলগ্ন বাগানবাজার বা হেয়াঁকো থেকে সাধারণ মানুষের জন্য চরম ভোগান্তির হবে। পাড়ি দিতে হবে প্রায় ৩০-৪০ কিলোমিটার পথ। তারা জানান, দাঁতমারা ও নারায়ণহাট ইউনিয়নের মধ্যবর্তী কোনো যৌক্তিক স্থানে সদর দপ্তর স্থাপিত হলে এই তিন ইউনিয়নের মানুষের সুবিধার হবে। আন্দোলনের নেতা হাসান সামসুদ্দিন বলেন, ‘আমাদের আন্দোলন ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা গঠনের বিরুদ্ধে নয়, বরং সদর দপ্তরের ভুল ও অযৌক্তিক সিলেকশনের বিরুদ্ধে। বাগানবাজার, দাঁতমারা ও নারায়ণহাটের মানুষ কোনোভাবেই বর্তমান নির্ধারিত স্থানে সহজে যাতায়াত করতে পারবে না। আমরা চাই ৬টি ইউনিয়নের মানুষ যাতে সমান সুবিধা পায়, এমন একটি মধ্যবর্তী ও যৌক্তিক স্থানে সদর দপ্তর স্থাপন করা হোক।
এদিকে সকাল থেকে হারুয়ালছড়ি, ভ‚জপুর এবং নারায়ণহাট ইউনিয়নের এলাকার জনগণ বাজারে সমাবেশ এবং শান্তিপূর্ণ মিছিলের আয়োজন করেছেন। তাদে দাবি, ভ‚জপুর থানা সংলগ্ন এলাকাটি উপজেলার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সামগ্রিক প্রশাসনিক কার্যক্রমের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত এবং সব ধরনের অবকাঠামোগত সুবিধা রয়েছে। তারা জানান, এ সড়ক অবরোধ ও হরতাল অহেতুক যা সাধারণ জনগণের অর্থনৈতিক ও যাতায়াত ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এজন্য তারা সরকারি সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে ভ‚জপুর ইউপি চেয়ারম্যান শাহাজাহান চৌধুরী শিপন বলেন, প্রধানমন্ত্রী সবদিক বিবেচনা করেই ভ‚জপুর থানা সংলগ্ন পশ্চিম ভ‚জপুর মৌজায় উপজেলার সদর দপ্তর নির্ধারণ করায় আমরা আন্তরিক অভিনন্দন এবং শুভেচ্ছা জানাই। আমরা কোনো ধরনের নৈরাজ্য বরদাশত করব না। আমরা সর্বস্তরের জনগণকে সাথে নিয়ে আমরা এই হরতালবিরোধী মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দিয়েছি। এখানে ইতিমধ্যেই থানা ভবনসহ প্রশাসনিক বিভিন্ন কাঠামো প্রস্তুত রয়েছে। এই সরকারি সিদ্ধান্তকে অচল করতে এবং উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতেই একটি পক্ষ হরতাল ও নৈরাজ্য সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে।