বড় সাজ্জাদের পরিচয়ে চাঁদাবাজি, চট্টগ্রামের সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কে গোলাম সারোয়ার

শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের ফুফাতো ভাই ও সহযোগী হিসেবে পরিচিত গোলাম সারোয়ার খানকে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পুলিশের দাবি, বড় সাজ্জাদের পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালাতেন তিনি। চট্টগ্রামেও বিভিন্ন অপরাধে তার সম্পৃক্ততার তথ্য খতিয়ে দেখছে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি)।

শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ডমেস্টিক ফ্লাইটের বহির্গমন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ডিএমপি ডিবির একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।

ডিবি জানায়, গোলাম সারোয়ার খান জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে প্রস্তুত করা কাগজপত্র ব্যবহার করে নিজেকে মিয়ানমারের নাগরিক হিসেবে দাবি করেন। ওই পরিচয়ে ডেনমার্কের ট্রাভেল ডকুমেন্ট সংগ্রহ করেন তিনি। পরে বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করে দেশ ছেড়ে ওমানে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। বিমানবন্দরের ডমেস্টিক ফ্লাইটের বহির্গমন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গোলাম সারোয়ার খান শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের ফুফাতো ভাই ও সহযোগী। বড় সাজ্জাদের অধীনে ঢাকা ও চট্টগ্রামে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার তথ্য রয়েছে। বিশেষ করে বড় সাজ্জাদের পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদাবাজি ও অন্যান্য অপরাধ পরিচালনা করতেন বলে পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে।

তার গ্রেপ্তারের পর চট্টগ্রামে বড় সাজ্জাদের সহযোগী হিসেবে গোলাম সারোয়ারের কর্মকাণ্ডের বিষয়টিও নতুন করে সামনে এসেছে। নগরীতে সংঘটিত বিভিন্ন ঘটনায় তার সরাসরি বা পরোক্ষ সম্পৃক্ততা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে সিএমপি।

এদিকে, গোলাম সারোয়ারকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে তার অপরাধ নেটওয়ার্ক, বড় সাজ্জাদের সঙ্গে তার যোগাযোগ এবং ঢাকা ও চট্টগ্রামে সংঘটিত অপরাধের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করছে পুলিশ। এ জন্য তাকে আদালতে সোপর্দ করে সাত দিনের পুলিশ রিমান্ডের আবেদন করেছে ডিএমপি।

পুলিশের তদন্তে তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, পরিচয় জালিয়াতি এবং অপরাধী চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়ে আরও তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।