প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম চট্টগ্রাম সফর রোববার, তিন উপজেলায় ব্যাপক প্রস্তুতি
আগামীকাল প্রথমে আসবেন মহেশখালীতে বাঁশখালী, ফটিকছড়ি ও হাটহাজারীতে ব্যাপক আয়োজন বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে দেয়া হবে নতুন ঘর
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো চট্টগ্রাম সফরে আসছেন তারেক রহমান। আগামীকাল রোববার একদিনের সফরে কক্সবাজারের মহেশখালী ও চট্টগ্রামের বাঁশখালী, ফটিকছড়ি ও হাটহাজারীর বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
সফরের শুরুতে সকাল ৯টায় মহেশখালী পৌঁছে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প ও মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (মিডা) কার্যক্রম পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর দুপুর ১২টার দিকে হেলিকপ্টারে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া সমুদ্রসৈকত সংলগ্ন এলাকায় যাবেন তিনি।
বাঁশখালীতে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে ত্রাণ বিতরণ করবেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় ১০০টি গৃহহারা পরিবারের হাতে নতুন ঘরের চাবি তুলে দেওয়ার কথা রয়েছে। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বন্যায় ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে এবং নতুন করে ঘর নির্মাণের সামর্থ্য নেই—এমন পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে ১০০ পরিবার নির্বাচন করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী প্রথমে স্বামীহারা এক নারীর হাতে নতুন ঘরের চাবি তুলে দিয়ে প্রতীকীভাবে পুনর্বাসন কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন।
প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে বাঁশখালীতে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকেও ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে নেতাকর্মীদের প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে। দলীয় নেতারা কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সফল করার আহ্বান জানিয়েছেন।
ফটিকছড়িতে হেফাজত নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়
বাঁশখালী থেকে দুপুর ১টার দিকে ফটিকছড়িতে যাওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সেখানে নাজিরহাট পৌরসভার বাবুনগর এলাকায় আল জামিয়াতুল ইসলামীয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় গিয়ে হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন তিনি।
পরে হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের প্রায় ৫০ জন সিনিয়র নেতার সঙ্গে মতবিনিময় করার কথা রয়েছে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর এ সফর অরাজনৈতিক। সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময়ের বাইরে কোনো রাজনৈতিক সমাবেশ বা জনসভা হবে না।
হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে ফটিকছড়ির উন্নয়ন ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট কয়েকটি দাবি প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৫০০ শয্যার বিশেষায়িত হাসপাতাল স্থাপন, চট্টগ্রাম-নাজিরহাট-রামগড় রেললাইন সম্প্রসারণ এবং চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার দাবি রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে ফটিকছড়ির পেলাগাজিতে অস্থায়ী হেলিপ্যাড নির্মাণের কাজও প্রায় শেষ হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি মাদ্রাসামুখী সড়ক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ চলছে।
হাটহাজারীতে শাহ আহমদ শফীর কবর জিয়ারত
ফটিকছড়ি থেকে সড়কপথে হাটহাজারীতে যাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসায় গিয়ে হেফাজতে ইসলামের প্রতিষ্ঠাতা আমির মরহুম আল্লামা শাহ আহমদ শফীর কবর জিয়ারত করবেন তিনি।
পরে মাদ্রাসা সংলগ্ন চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের ডাকবাংলোয় কিছু সময় অবস্থান করবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর হাটহাজারী সরকারি কলেজ মাঠে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।
অনুষ্ঠানে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৩০টি পরিবারকে ঘর নির্মাণে সহায়তা হিসেবে প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে দেওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি ১৫ জন প্রতিবন্ধীকে শুভেচ্ছা উপহার হিসেবে ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কর্মসূচিও রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে হাটহাজারীতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। কলেজ মাঠে মঞ্চ নির্মাণের পাশাপাশি সড়ক সংস্কার, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও বিভিন্ন প্রশাসনিক প্রস্তুতি চলছে। যানজট নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্যসেবা, জরুরি চিকিৎসা, আপ্যায়ন ও নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম বিএনপির সাংগঠনিক সভা
চট্টগ্রাম সফরের শেষ পর্যায়ে রোববার সন্ধ্যায় নগরীর রেডিসন ব্লু হোটেলে চট্টগ্রাম বিএনপির সাংগঠনিক সভায় যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।
প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় প্রশাসনিক প্রস্তুতির পাশাপাশি বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের মধ্যেও ব্যাপক কর্মতৎপরতা চলছে।
চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. জিয়াউদ্দিন জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করে নিতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সফর শেষে রাত ৯টা ২০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীর ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে।