চট্টগ্রাম-৯ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও চট্টগ্রাম ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান বলেছেন, জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার মান আগের তুলনায় উন্নত হয়েছে। এ ধারাবাহিকতা বজায় রেখে হাসপাতালটিকে আরও আধুনিক, সেবাবান্ধব ও কার্যকর প্রতিষ্ঠানে রূপ দিতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকালে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রথম সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, হাসপাতালের ইনডোর, আউটডোর ও জরুরি বিভাগে আগত রোগীরা যেন নির্বিঘ্নে কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা পান, তা নিশ্চিত করতে চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আরও আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।
সভায় হাসপাতালের সার্বিক উন্নয়ন ও সেবার মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে জনবল নিয়োগ, নতুন ভবন নির্মাণ, জরাজীর্ণ ভবনের সংস্কার, এনআইসিইউ (NICU) স্থাপন, প্রসূতি সেবা সম্প্রসারণ, মুক্তিযোদ্ধা ও জুলাই যোদ্ধাদের জন্য বিশেষ চিকিৎসাসেবা, পরিচ্ছন্নতা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন, অগ্নিনির্বাপণ ও দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি, প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা জোরদার, হতদরিদ্র নারী, শিশু, প্রবীণ ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের চিকিৎসা নিশ্চিতকরণ, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং হাসপাতালের ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও স্থাপনার সুষ্ঠু ব্যবহারের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সভায় হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সহ-সভাপতি ও সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা বলেন, রোগীদের প্রত্যাশিত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতালের কার্যক্রম আরও দৃশ্যমান ও কার্যকর করা হবে। একই সঙ্গে জেনারেল হাসপাতালকে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশেষায়িত হাসপাতালে উন্নীত করতে সরকারের সহযোগিতা চাওয়া হবে।
সভার শুরুতে হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক (সহযোগী অধ্যাপক, কার্ডিওলজি) ও ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য সচিব ডা. মো. একরাম হোসেন স্বাগত বক্তব্য দেন এবং হাসপাতালের চলমান কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
সভায় জেলা সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম, বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহাবুদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, অধ্যাপক ডা. মো. জসিম উদ্দিন, অধ্যাপক ডা. সাইফুদ্দিন মোহাম্মদ তারেক, বাসসের বিশেষ প্রতিনিধি মিয়া মোহাম্মদ আরিফ, টেরিবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. আব্দুল মান্নান, মো. আনামুল হক ইকবাল, ডা. হোসনা আরা বেগম এবং নার্সিং সুপারভাইজার মঞ্জু রানী দাশসহ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা হাসপাতালের বর্তমান চিকিৎসাসেবায় সন্তোষ প্রকাশ করে রোগীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং সেবার মান আরও বাড়াতে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।