সেন্টমার্টিনে ২০ হাজার চারা রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, সবুজায়ন ও জলবায়ু সহিষ্ণুতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ‘বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি-২০২৬’-এর উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল শনিবার (৮ আগস্ট) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, এমপি এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ‘সবুজ বাংলাদেশ’ প্রকল্পের আওতায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এনরুট ফাউন্ডেশন ও ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ-এর আয়োজনে এবং বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের সার্বিক তত্ত্বাবধানে কর্মসূচিটি অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মসূচির আওতায় সেন্টমার্টিন দ্বীপে বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ২০ হাজার চারা রোপণ করা হবে। এসব চারা দ্বীপের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা, মাটি ক্ষয় রোধ, জীববৈচিত্র্যের আবাসস্থল সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় ভূমিকা রাখবে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।

কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এ সময় তিনি সেন্টমার্টিনের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

এদিকে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির পাশাপাশি সেন্টমার্টিনে আয়োজিত ‘প্লাস্টিক ফ্রি বিচ ক্যাম্পেইন’-এও অংশ নেন প্রতিমন্ত্রী। এ সময় দ্বীপের পরিবেশ সংরক্ষণ ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে স্থানীয় জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।

কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাংলাদেশ সরকার বন, বন্যপ্রাণী, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে আগামী পাঁচ বছরে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় সেন্টমার্টিনে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

সেন্টমার্টিনের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও অনন্য জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। পরিবেশ সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও টেকসই সবুজায়নে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।