দক্ষিণ আমেরিকার দেশ কলম্বিয়ায় ৭ দশমিক ৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ১৩০ জন নিহত হয়েছেন। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন শত শত মানুষ। ভয়াবহ এই ভূমিকম্পের পর দেশটিতে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন নতুন প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এস্প্রিয়েলা।
কলম্বিয়ান জিওলজিক্যাল সার্ভিস জানিয়েছে, চলতি শতাব্দীতে দেশটিতে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প এটি। সোমবারের ভূমিকম্পে পশ্চিম কলম্বিয়ার কালী, পেরেইরা, কুইবদো ও মানিজালেসসহ বিভিন্ন শহরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কম্পন অনুভূত হয়েছে প্রতিবেশী ইকুয়েডর ও পানামাতেও।
ভূমিকম্পের পর কয়েক ঘণ্টায় অন্তত ২১টি পরাঘাত অনুভূত হয়। ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের উদ্ধারে কাজ করছেন উদ্ধারকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কালী শহরে অন্তত ২০টি ভবন পুরোপুরি ধসে পড়েছে। আরও ৩৮০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব ভবনের ধ্বংসস্তূপে অনেক মানুষ আটকা পড়েছেন। তাদের উদ্ধারে ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ চলছে।
কালী শহরের ৬৪ বছর বয়সি ট্যাক্সিচালক জর্জে মনকায়ো বার্তা সংস্থা এপিকে বলেন, ভবন ধসে পড়ার সময় পুরো শহরজুড়ে ধুলার মেঘ দেখতে পান তিনি। তিনি বলেন, ‘আমার পুরো বাড়ি কেঁপে উঠেছিল। এত শক্তিশালী ভূমিকম্পের অভিজ্ঞতা আমার কখনো হয়নি।’
আরেক বাসিন্দা হুয়ান কার্লোস ওসোরিও কারাকোল টেলিভিশনকে বলেন, ভবন ধসে পড়ার শব্দ বোমা বিস্ফোরণের মতো শোনাচ্ছিল।
জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা
প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এস্প্রিয়েলা দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই এই ভয়াবহ দুর্যোগের মুখে পড়েছেন। স্থানীয় সময় দুপুর ১টার দিকে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন।
প্রেসিডেন্ট বলেন, মানুষের জীবন রক্ষা, ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা এবং প্রয়োজনীয় সব জায়গায় ত্রাণ পৌঁছে দিতে সরকার তার সব সক্ষমতা কাজে লাগাচ্ছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা ব্যক্তিদের উদ্ধার করাই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার বলেও জানান তিনি।
প্রাথমিক হিসাবে ১১১ জন নিহত ও ৮৭ জন আহত হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট। পরে নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ১৩০ জনে দাঁড়িয়েছে।