রেল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে চট্টগ্রামে মানববন্ধন

সরকারি দায়িত্ব পালনকালে বাংলাদেশ রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর হামলা, হেনস্তা ও হুমকির প্রতিবাদে এবং নিরাপত্তা ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার দাবিতে চট্টগ্রামে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টায় চট্টগ্রামের সিআরবিতে বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মসূচিতে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট মোহাম্মদ সফিকুর রহমান, প্রধান বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক সুজিত কুমার বিশ্বাস, প্রধান প্রকৌশলী মো. তানভিরুল ইসলাম, প্রধান বৈদ্যুতিক প্রকৌশলী মো. শফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত প্রধান বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক শওকত জামিল মোহসী, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান, যন্ত্র প্রকৌশলী আমীর উদ্দিন, ডেপুটি সিওপিএস তারেক মুহাম্মদ ইমরান, নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মুরসালীন রহমান, টিএসও আহসান উদ্দিন, ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ার রিয়াসাদ ইসলাম ও ডেপুটি সিসিএম মো. হারুনুর রশিদসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, আন্তঃনগর ট্রেনের এসি শ্রেণির কোচ ও কেবিনে কিছু যাত্রী বিনা টিকিটে ভ্রমণ করেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীরা টিকিট দেখতে চাইলে তাদের কেউ কেউ সংঘবদ্ধ হয়ে হট্টগোল, বাকবিতণ্ডা ও হুমকি-ধমকিতে জড়িয়ে পড়েন। এমনকি সরকারি দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার পাশাপাশি চলন্ত ট্রেনে হামলার মতো ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

বক্তারা জানান, গত ২৫ জুলাই ৭২৬ নম্বর সুন্দরবন এক্সপ্রেস এবং ৪ আগস্ট ৭৯২ নম্বর বনলতা এক্সপ্রেসে বিনা টিকিটের যাত্রীদের হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে তারা দাবি করেন।

এ ছাড়া গত ৭ আগস্ট ৭৫৩ নম্বর সিল্কসিটি এক্সপ্রেস আব্দুলপুর স্টেশন থেকে ছেড়ে আসার পর এসি কোচে কয়েকজন বিনা টিকিটের যাত্রীকে পাওয়া যায়। তাদের ন্যূনতম ভাড়া ও জরিমানা পরিশোধ করে নন-এসি কোচে যাওয়ার অনুরোধ করা হলে তারা অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়। পরে ট্রেনটি স্টেশনে পৌঁছালে একটি সংঘবদ্ধ চক্র রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর হামলা চালায় বলে মানববন্ধনে অভিযোগ করা হয়।

বক্তারা বলেন, এ ধরনের ঘটনায় টিকিট চেকিংয়ের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এতে টিকিট চেকিং কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি রেলওয়ের সরকারি রাজস্ব আদায়েও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

মানববন্ধন থেকে ৭ আগস্টসহ বিভিন্ন সময়ে রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর হামলা ও সরকারি কাজে বাধাদানের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে দায়িত্ব পালনকালে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।

বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, সরকারি দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অফিস কক্ষেও কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী সন্ত্রাসীদের হেনস্তা ও হুমকির শিকার হচ্ছেন।

একই দাবিতে চট্টগ্রামের পাহাড়তলী বিভাগীয় কার্যালয়েও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা (ডিসিও) তৌষিয়া আহমেদের নেতৃত্বে আয়োজিত কর্মসূচিতে বিভাগীয় কার্যালয়ের সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন।

কর্মসূচি থেকে হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি সরকারি দায়িত্ব পালনকালে রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।