শিপিং চ্যানেলে অনিয়ন্ত্রিত মাছের জাল, বাড়ছে নৌ-দুর্ঘটনার ঝুঁকি

চট্টগ্রামের পতেঙ্গা থেকে হাতিয়া হয়ে কুতুবদিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত শিপিং চ্যানেলে অনিয়ন্ত্রিতভাবে মাছ ধরার জাল বসানোর কারণে মারাত্মক নৌ-নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে আলফা, ব্রাভো ও চার্লি অ্যাংকারেজ এলাকায় পরিস্থিতি সবচেয়ে উদ্বেগজনক বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

জাহাজের প্রপেলারে জাল আটকে ইঞ্জিন বিকল হওয়ার পাশাপাশি জাহাজডুবি ও জলদস্যুর হামলার আশঙ্কাও বাড়ছে। এতে আন্তর্জাতিক শিপিং কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি চট্টগ্রাম বন্দরের সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে এমএসসি শিপিংয়ের হেড অব অপারেশন আজমীর হোসাইন চৌধুরী বলেন, জাহাজগুলো স্বাভাবিকভাবে চলাচল ও ম্যানুভার করতে পারছে না। শিপিং চ্যানেলে অতিরিক্ত মাছ ধরার জাল এবং যত্রতত্র নোঙর করা জাহাজ চলাচলকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। বিশেষ করে সন্ধ্যা ও রাতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।

তিনি বলেন, “অতিরিক্ত ফিশিং নেটের কারণে জাহাজ নিরাপদে চলাচল করতে পারছে না। সন্ধ্যার পর ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।”

চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে ২৪ ঘণ্টাই পণ্য খালাস কার্যক্রম চলমান থাকে। কিন্তু জালের কারণে রাতের নৌচলাচল ব্যাহত হলে জাহাজের টার্নঅ্যারাউন্ড টাইম বেড়ে যাবে। এর ফলে আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলোকে অতিরিক্ত ডেমারেজ চার্জ গুনতে হতে পারে।

লাইটার মাস্টাররা জানান, অনেক সময় জালের মোটা রশি জাহাজের প্রপেলারে আটকে গিয়ে ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায়। এতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়।

তারা বলেন, “ফাঁকা অবস্থায় চলাচলের সময় জালের মোটা রশি প্রপেলারে জড়িয়ে গেলে ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায়। তখন জাহাজ দুর্ঘটনার মুখে পড়ে।”

এ বিষয়ে নৌ বাণিজ্য অধিদপ্তরের প্রিন্সিপাল অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ক্যাপ্টেন শেখ জালাল উদ্দিন গাজী জানান, শিপিং চ্যানেলে আন্ডারওয়াটার অপারেশন ও ড্র্যাগিং-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে। তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বিষয়টি দ্রুত সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

সংশ্লিষ্টদের মতে, আন্তর্জাতিক নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শিপিং চ্যানেলে অনিয়ন্ত্রিতভাবে মাছ ধরার জাল বসানো বন্ধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। অন্যথায় নৌ-দুর্ঘটনা, বাণিজ্যিক ক্ষতি এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চট্টগ্রাম বন্দরের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা আরও বাড়বে।