সরকার-সমাজের সমন্বিত উদ্যোগে সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত সম্ভব: বিভাগীয় কমিশনার

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দিন বলেছেন, সরকার ও সমাজ সমন্বিতভাবে কাজ করলে দুর্যোগসহ যেকোনো সংকট মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব। তিনি বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর বর্তমান প্রজন্মের মধ্যে প্রজন্মান্তরে সঞ্চারিত জ্ঞানের ঘাটতি তৈরি হওয়ায় প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি হচ্ছে।

রোববার (২ আগস্ট) নগরীর মোটেল সৈকতে ইউনিসেফের সহযোগিতায় গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের অধীন চট্টগ্রাম জেলা তথ্য অফিস আয়োজিত ‘জীবন রক্ষাকারী বার্তা প্রচার, বন্যা আক্রান্ত জনগোষ্ঠীর প্রতি দায়বদ্ধতা এবং আচরণগত পরিবর্তনের বিষয়’ শীর্ষক দিনব্যাপী ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে অনলাইনে সভাপতিত্ব করেন গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবদুল জলিল।

বিভাগীয় কমিশনার বলেন, প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন কারণে বর্তমান প্রজন্মের কাছে পূর্বসূরিদের অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান স্থানান্তরের প্রবণতা কমে গেছে। ফলে বন্যা, খরা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় অনেকেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও করণীয় সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা রাখেন না। এই জ্ঞানের ঘাটতি পূরণে সরকারের পাশাপাশি সমাজের সচেতন ও আগ্রহী ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, উন্নত দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের দুর্যোগ প্রস্তুতি ও উদ্ধার ব্যবস্থায় কিছু পার্থক্য থাকলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশ আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। বর্তমানে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থা এবং অসংখ্য তরুণ স্বেচ্ছাসেবীর সক্রিয় অংশগ্রহণের কারণে আগের তুলনায় ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। সাম্প্রতিক বন্যায়ও বহু তরুণ জীবন বাজি রেখে উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছেন।

সাম্প্রতিক বন্যাকালে জেলা তথ্য অফিসগুলোর গভীর রাত পর্যন্ত দুর্গম এলাকায় জীবন রক্ষাকারী ও সচেতনতামূলক বার্তা প্রচারের ভূয়সী প্রশংসা করে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, প্রশাসনের সব শাখা জনসেবায় সবসময় নিবেদিত থাকবে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন মাধুরী ব্যানার্জি, বান্দরবান জেলা তথ্য কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন এবং চট্টগ্রাম জেলা তথ্য অফিসের পরিচালক (রুটিন দায়িত্ব) আয়েশা সিদ্দীকা।

এ সময় ইউনিসেফের চট্টগ্রাম ও বরিশাল অঞ্চলের এসবিসি কর্মকর্তা আবদুল জলিল সাম্প্রতিক বন্যা, ক্ষয়ক্ষতি, প্রাণহানি এবং স্বাস্থ্যবিষয়ক তথ্য প্রচার নিয়ে একটি গবেষণালব্ধ প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

ওরিয়েন্টেশনে চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, লামা ও পটিয়া—এই ছয়টি জেলা তথ্য অফিসের কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এছাড়া প্রতিটি জেলা তথ্য কর্মকর্তার নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের স্বেচ্ছাসেবী দল দুর্যোগকালীন সচেতনতামূলক বার্তা প্রচারের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে। দ্বিতীয় অধিবেশনে তাদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় এবং পরে দুর্যোগকালীন বার্তা প্রচারের জন্য মাইক বিতরণ করা হয়। বিভাগীয় কমিশনার স্বেচ্ছাসেবীদের হাতে এসব মাইক তুলে দেন।