দেশের সবচেয়ে বড় মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোন শক্তিশালী ব্যবসায়িক ভিত্তি ও নিয়মিত লভ্যাংশ প্রদানের কারণে দীর্ঘদিন ধরে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত। তবে সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিষ্ঠানটির মুনাফায় চাপ, ঋণ বৃদ্ধি এবং কয়েকটি আইনি জটিলতা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন শেষে গ্রামীণফোনের ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ হাজার ১৯৫ কোটি টাকা।
২০২০ সালে যেখানে গ্রামীণফোনের নিট মুনাফা ছিল ৩ হাজার ৭০০ কোটি টাকার বেশি, ২০২৫ সালে তা কমে দাঁড়ায় ২ হাজার ৯৫৮ কোটি টাকায়। এদিকে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে প্রতিষ্ঠানটির নিট মুনাফা হয়েছে ১ হাজার ৪২১ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ শতাংশ কম।
মুনাফা কমার পাশাপাশি ঋণের পরিমাণও ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। ২০২০ সালে প্রতিষ্ঠানটির ঋণ ছিল মাত্র ১২৪ কোটি টাকা। ২০২৫ সালের শেষে তা বেড়ে প্রায় ৭০০ কোটি টাকায় পৌঁছায়। আর ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসেই ঋণ আরও প্রায় ৫০০ কোটি টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৯৫ কোটি টাকায়।
যদিও ঋণ বৃদ্ধির বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এদিকে, গ্রামীণফোন বর্তমানে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সঙ্গে প্রায় সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকার নিরীক্ষা-সংক্রান্ত আইনি বিরোধ এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের সঙ্গে প্রায় ১৩২ কোটি টাকা পরিশোধ-সংক্রান্ত আরেকটি আইনি বিরোধে রয়েছে।
এ বিষয়ে গ্রামীণফোনের চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার তানভীর মোহাম্মদ বলেন, নিরীক্ষা-সংক্রান্ত বিরোধের পুরো প্রক্রিয়াটি নিয়েই তাদের আপত্তি রয়েছে। বিষয়টি স্বচ্ছভাবে মূল্যায়ন করা হলে সমাধানের সুযোগ রয়েছে বলে তারা মনে করেন। এ কারণে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি বিটিআরসির সঙ্গে আলোচনাও চালিয়ে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
তিনি বলেন, “বিটিআরসির সঙ্গে আমরা আলোচনা করছি। কারণ এই বিরোধের সমাধান দুই পক্ষের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ।”
এসব চ্যালেঞ্জের মধ্যেও শেয়ারহোল্ডারদের নিয়মিত লভ্যাংশ দিয়ে আসছে গ্রামীণফোন। ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি সর্বোচ্চ ৩৩০ শতাংশ পর্যন্ত নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। আর চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসের জন্য ১০৫ শতাংশ অন্তর্বর্তীকালীন নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে।