বাংলাদেশীদের জন্য সুখবর দিলো সৌদি, ৪৮ ঘণ্টায় মিলবে ভিসা

বাংলাদেশসহ বিশ্বের সাতটি দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া অত্যন্ত সহজ ও ঝামেলাহীন করতে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে সৌদি আরব। এখন থেকে দেশটির পর্যটন মন্ত্রণালয় ঘোষিত একটি বিশেষ ‘ভিসা প্যাকেজ’ কর্মসূচির আওতায় আলাদা কোনো আবেদন ছাড়াই সরাসরি ইলেকট্রনিক ট্যুরিস্ট ভিসা (ই-ভিসা) পাবেন বাংলাদেশী পর্যটকেরা।
সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে এই সুবিধা পাওয়ার জন্য যে ৭টি দেশকে নির্বাচন করা হয়েছে, সেগুলো হলো- বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, মিশর, জর্ডান, ইন্দোনেশিয়া এবং মেক্সিকো।
কী এই ‘ভিসা প্যাকেজ’ ও আবেদন প্রক্রিয়া
এই কর্মসূচির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো ওয়ান-স্টপ সলিউশন। অর্থাৎ, বাংলাদেশি ভ্রমণকারীদের ভিসার জন্য আলাদা কোনো ফরম পূরণ করতে হবে না কিংবা সৌদি দূতাবাসেও যাওয়ার প্রয়োজন পড়বে না। তারা যখন সৌদি সরকারের অনুমোদিত এজেন্সির মাধ্যমে রিটার্ন ফ্লাইটের টিকিট এবং থাকার হোটেল বুক করবেন, তখনই সেই ট্রাভেল প্যাকেজের ভেতরে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ই-ভিসা ও ভ্রমণ বিমা যুক্ত হয়ে যাবে।
অনুমোদিত এজেন্সির মাধ্যমে এই সমন্বিত প্যাকেজটি কেনার সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইলেকট্রনিকভাবে ভিসা ইস্যু করা হবে এবং ইমেইলের মাধ্যমে ভিসা, ইন্স্যুরেন্সসহ ভ্রমণ-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্র আবেদনকারীর কাছে পাঠিয়ে দেয়া হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে এই পরিষেবা প্রদানের জন্য ‘রিজারভাল’ ও ‘আলমোসাফের’ নামের দুটি ট্রাভেল এজেন্সিকে লাইসেন্স দিয়েছে সৌদি সরকার।
ভিসার শর্ত ও খরচ
এই প্যাকেজের অধীনে দেয়া সিঙ্গেল-এন্ট্রি ট্যুরিস্ট ভিসাটির মেয়াদ থাকবে ৩ মাস। এই ভিসায় সৌদি আরবে সর্বনিম্ন ২ দিন থেকে সর্বোচ্চ ৮৮ দিন পর্যন্ত অবস্থান করা যাবে। তবে প্যাকেজটি বুকিংয়ের ক্ষেত্রে শর্ত হলো- এতে অবশ্যই নিশ্চিত রিটার্ন ফ্লাইটের টিকিট থাকতে হবে এবং হোটেলটি পর্যটন মন্ত্রণালয় অনুমোদিত ন্যূনতম ফোর-স্টার (৪ তারকা) মানের হতে হবে।
খরচের ক্ষেত্রে জানানো হয়েছে, প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রথম দুই দিনের প্যাকেজের সর্বনিম্ন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৪,০০০ সৌদি রিয়াল। এরপর প্রতি অতিরিক্ত দিনের জন্য ১,০০০ সৌদি রিয়াল করে যোগ হবে। এছাড়া ভিসা প্রসেসিং ও ভ্রমণ বীমাসহ মোট ভিসা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০২.২১ সৌদি রিয়াল। ভ্রমণকারীরা চাইলে তাদের এই বুকিংয়ের সঙ্গে বিভিন্ন বিনোদনমূলক ইভেন্টের টিকিটও যুক্ত করতে পারবেন।
ওমরাহ ও অন্যান্য ভ্রমণ
সৌদির পর্যটন মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করেছে যে, এই ট্রাভেল প্যাকেজগুলোতে সরাসরি মক্কা ও মদিনার ওমরাহ-সম্পর্কিত কোনো সেবা বা ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত থাকবে না। তবে এই ই-ভিসা নিয়ে সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর বাংলাদেশী পর্যটকেরা মক্কা ও মদিনাসহ দেশটির যেকোনো দর্শনীয় স্থানে ভ্রমণ করতে পারবেন।
কোনো অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির কারণে যদি ফ্লাইট বা হোটেলের বুকিং বাতিল করতে হয়, তবে অর্থ ফেরত এবং বুকিং পরিবর্তনের বিষয়টি অনুমোদিত ওই দুই ট্রাভেল এজেন্সির নিজস্ব নীতিমালা অনুযায়ী নিষ্পত্তি করা হবে।