ভাণ্ডারিয়ায় বেহাল সড়কে চরম দুর্ভোগ, ঝুঁকিতে সাত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী

পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া পৌরসভার একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, যাত্রী ও সাধারণ মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কজুড়ে সৃষ্টি হচ্ছে খানাখন্দ, জলাবদ্ধতা ও কাদা। এতে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে হাজারো মানুষকে।

উপজেলার পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের লক্ষ্মীপুরা গ্রামের ওপর দিয়ে ভিটাবাড়িয়া ইউনিয়নের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনকারী এ সড়কটি এলাকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ। এই সড়ক দিয়েই প্রতিদিন ভাণ্ডারিয়া লঞ্চঘাট, উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পশু হাসপাতালসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করেন মানুষ।

পাশাপাশি ভাণ্ডারিয়া বিহারী লাল মিত্র পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৬৮নং ভাণ্ডারিয়া হাই সংলগ্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ভাণ্ডারিয়া শাহাবুদ্দিন কামিল মাদরাসা, ভাণ্ডারিয়া বন্দর সরকারি বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ভাণ্ডারিয়া মজিদা বেগম মহিলা কলেজ, থানা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ভাণ্ডারিয়া সরকারি কলেজের শত শত শিক্ষার্থী প্রতিদিন এ পথ ব্যবহার করে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির কোনো সংস্কার না হওয়ায় বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে এসব গর্তে পানি জমে সড়কটি কার্যত চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। কাদা ও ভাঙাচোরা অংশ এড়িয়ে চলতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন পথচারী ও মোটরসাইকেল আরোহীরা।

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা জানান, প্রতিদিন স্কুল-কলেজে যেতে তাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থী ইউনিফর্ম নষ্ট করে বিদ্যালয়ে পৌঁছায়, আবার অনেকেই পিছলে পড়ে আহত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে। একইভাবে শিক্ষক, চাকরিজীবী, লঞ্চঘাটের যাত্রী, পশু হাসপাতালে সেবা নিতে আসা খামারি এবং সাধারণ মানুষও প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

এলাকাবাসীর দাবি, সড়কটি শুধু একটি এলাকার নয়, এটি পৌরসভা ও ভিটাবাড়িয়া ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়ক। তাই দ্রুত সংস্কার করা হলে শিক্ষার্থীসহ হাজারো মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হবে এবং নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভাণ্ডারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক মো. হাসিবুল হাসান বলেন, সড়কটি সংস্কারের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পৌরসভার প্রকৌশলীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ভাণ্ডারিয়া পৌরসভার প্রকৌশলী গাজী নজরুল ইসলাম বলেন, সড়কটির সংস্কার কাজের অনুমোদনের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।

এদিকে দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু না হলে বর্ষা মৌসুমে সড়কটির অবস্থা আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তারা শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের নিরাপদ চলাচলের স্বার্থে জরুরি ভিত্তিতে সড়কটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।