চট্টগ্রাম বন্দরের বহিঃনোঙরে ছিঁচকে চুরি, পাইরেসি ও চোরাচালান প্রতিরোধে নিয়মিত টহল, বিশেষ অভিযান এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। বাহিনীটির দাবি, এসব উদ্যোগের ফলে বহিঃনোঙর এলাকায় অপরাধ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, সম্প্রতি প্রকাশিত ‘চট্টগ্রাম বন্দরের বহিঃনোঙরে ৩ জাহাজে লুট, নিরাপত্তা উদ্বেগ’ শিরোনামের একটি সংবাদের কিছু তথ্য বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সংশ্লিষ্ট তিনটি জাহাজের মধ্যে দুইটির ক্ষেত্রে কোস্ট গার্ডকে দ্রুত অবহিত করা হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার ফলে কোনো মালামাল চুরি হয়নি। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট জাহাজ কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডকে No Objection Certificate (NOC) এবং Letter of Appreciation প্রদান করেছে বলেও দাবি করা হয়।
অন্য জাহাজটির ক্ষেত্রে চুরির ঘটনার প্রায় ৭ ঘণ্টা ১৫ মিনিট পর শিপিং এজেন্ট কোস্ট গার্ডকে অবহিত করে। পরে দ্রুত বোর্ডিং টিম পাঠিয়ে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করা হয়, যা এখনও চলমান রয়েছে। কোস্ট গার্ডের দাবি, ওই জাহাজে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বিধি অনুযায়ী অনুমোদিত ওয়াচম্যান নিয়োজিত ছিল না, যা নিরাপত্তা ব্যবস্থার একটি বড় ঘাটতি।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, গত ছয় মাসে কোস্ট গার্ড পূর্ব জোন চট্টগ্রাম বন্দরের বহিঃনোঙর এলাকায় মোট ৩,৪৮৫টি টহল এবং ১১২টি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে। এসব অভিযানে বিভিন্ন ধরনের অবৈধ মালামাল জব্দের পাশাপাশি ৩৪ জন চোরাচালানকারী ও ছিঁচকে চোরকে আটক করা হয়েছে।
এছাড়া গত রাতে বিসিজি আউটপোস্ট পতেঙ্গার পরিচালিত বিশেষ অভিযানে ১৬টি নৌযানসহ ৪১ জনকে আটক করা হয়েছে। কোস্ট গার্ডের ভাষ্য, চোরাকারবারি ও ছিঁচকে চোরেরা মৎস্য আহরণের আড়ালে কিংবা বিভিন্ন অজুহাতে বহিঃনোঙরে অবস্থানরত বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্য করে অপরাধ সংঘটিত করে থাকে।
কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, দেশের সমুদ্রবন্দর, উপকূলীয় ও নদীতীরবর্তী অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে যেকোনো সংবাদ প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তথ্য যাচাই করে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের জন্য গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাহিনীটি।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বর্তমানে জনবল ও প্রয়োজনীয় বোট-সরঞ্জামে কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও সরকারের উদ্যোগে দুটি অত্যাধুনিক হেলিকপ্টার সংযোজন এবং জনবল বৃদ্ধির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের আভিযানিক সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।