প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ, আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর নৌবাহিনী গঠনে অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত

নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধান ভাইস এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম শনিবার (২৫ জুলাই) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।

দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই ছিল নৌবাহিনী প্রধানের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সৌজন্য সাক্ষাৎ। এ সময় প্রধানমন্ত্রী নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধানকে অভিনন্দন জানিয়ে তাঁর সফল দায়িত্ব পালনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন এবং সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। জবাবে নৌবাহিনী প্রধান দায়িত্ব পালনে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তাঁর দিকনির্দেশনা ও সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।

সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের সমুদ্রসীমার সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, সামুদ্রিক সম্পদের টেকসই ব্যবহার, আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে বাণিজ্যের নিরাপত্তা এবং সুনীল অর্থনীতির বিকাশে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রশংসা করেন। পাশাপাশি দেশের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি রাষ্ট্রগঠন ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নৌবাহিনীর ধারাবাহিক অবদানেরও ভূয়সী প্রশংসা করেন।

তিনি বর্তমান সরকারের সময়ে নৌবাহিনীর আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নেওয়া বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে বাহিনীকে আরও আধুনিক, ত্রিমাত্রিক ও প্রযুক্তিনির্ভর বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ভবিষ্যতে আরও দক্ষ, আধুনিক ও প্রযুক্তিসমৃদ্ধ বাহিনীতে পরিণত হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এ সময় নৌবাহিনী প্রধান ভাইস এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম প্রতিরক্ষা শিল্পে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ নীতির আলোকে দেশীয় প্রযুক্তির বিকাশ, গবেষণা ও উন্নয়ন সম্প্রসারণ এবং উদ্ভাবনী সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে একটি শক্তিশালী ও প্রযুক্তিনির্ভর নৌবাহিনী গড়ে তোলার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেন।

তিনি জানান, বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরিচালিত শিপইয়ার্ড ও ডকইয়ার্ডে দেশীয় প্রযুক্তিতে যুদ্ধজাহাজ ও অন্যান্য নৌযান নির্মাণ ও মেরামতের কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে সম্প্রসারিত হচ্ছে। পাশাপাশি ‘সেন্টার ফর নেভাল রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’-এর গবেষণা ও উদ্ভাবনী কার্যক্রম বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে স্বনির্ভরতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

নৌবাহিনী প্রধান বলেন, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে নৌবাহিনীর অপারেশনাল সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি এবং সকল স্তরের নৌসদস্যদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি আধুনিক, দক্ষ ও প্রযুক্তিনির্ভর নৌবাহিনী গড়ে তোলার কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।