ফৌজদারহাট বিআইটিআইডিতে ‘ডেঙ্গুর ক্লিনিক্যাল ম্যানেজমেন্ট’ প্রশিক্ষণ
“সরকারি উদ্যোগে একা ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়: বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক”
ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সরকারি উদ্যোগ নয়, ব্যক্তি ও সামাজিক পর্যায়েও সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. সেখ ফজলে রাব্বি।
তিনি বলেন, “সকলের প্রচেষ্টা ছাড়া ডেঙ্গু প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। সচেতনতা, ঐক্য ও সম্মিলিত উদ্যোগই ডেঙ্গু প্রতিরোধের মূল ভিত্তি।”
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাটে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি)-এর উদ্যোগে ‘ডেঙ্গুর ক্লিনিক্যাল ম্যানেজমেন্ট (২০২৫ গাইডলাইন অনুযায়ী)’ শীর্ষক দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিআইটিআইডির সম্মেলন কক্ষে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
বিআইটিআইডির পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. ইফতেখার আহমদের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিভিন্ন বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক ও মেডিকেল অফিসাররা অংশ নেন।
প্রধান অতিথি ডা. সেখ ফজলে রাব্বি ডেঙ্গু প্রতিরোধের পাশাপাশি যথাসময়ে সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করে মৃত্যুহার কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ডেঙ্গু একটি মারাত্মক রোগ। তাই এর উপসর্গ সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে হবে। একই সঙ্গে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, মশক নিধন এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করতে হবে।
ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পাশাপাশি পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। নিজের ও পরিবারের সুরক্ষায় বাসাবাড়ি এবং আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন।
কর্মশালায় ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসা ও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী, কিডনি রোগীসহ বিশেষ পরিস্থিতিতে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
সভাপতির স্বাগত বক্তব্যে বিআইটিআইডির পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. ইফতেখার আহমদ ডেঙ্গু পরিস্থিতি ও এর চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
প্রশিক্ষণের মূল আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন অধ্যাপক (ডা.) মামুনুর রশীদ, ডা. মো. আবু বক্কর সিদ্দিক, ডা. আয়েশা ফারহানা, ডা. রুমানা রশীদ, ডা. প্রণব কুমার বড়ুয়া, ডা. মাহবুব আনাম শাহরিয়ার খান ও ডা. তাবাস্সুম ফেরদৌসী।
বক্তারা বলেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, মশক নিধন, পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দিতে হবে। শুধু সরকারি উদ্যোগে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। এজন্য প্রত্যেককে নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে হবে এবং কোথাও পানি জমতে দেওয়া যাবে না।