ফিফা সভাপতির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলল জর্ডান

জর্ডান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি প্রিন্স আলী বিন আল-হুসেইন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে ‘ব্ল্যাকমেইল’ করার অভিযোগ এনে দাবি করেন, তার সমর্থন পাওয়ার বিনিময়ে জর্ডানের ফুটবল সংস্থার বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছিল ফিফা।
আল-হুসেইনের অভিযোগ, বিশ্বকাপ চলাকালে ফিফা মৌখিকভাবে জানিয়েছিল যে, ইনফান্তিনোকে সমর্থন করলে ‘আমাদের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে তা অনেক সাহায্য করবে’। অথচ তার আগে কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন বিষয়ে সহায়তার অনুরোধ জানিয়েও ফিফার কাছ থেকে কোনো সহযোগিতা মেলেনি।
এক্সে দেয়া এক পোস্টে আল-হুসেইন লেখেন, জর্ডানে আমরা নৈতিক মূল্যবোধ সমুন্নত রাখতে গর্ববোধ করি। আমরা আগে তাকে সমর্থন করিনি, এখনও করব না।
তিনি আরও বলেন, পুরো পরিস্থিতিটাই ব্ল্যাকমেইলের শামিল, আর আমরা এর কাছে নতি স্বীকার করব না। রয়টার্স এ বিষয়ে সব অভিযোগের প্রতিক্রিয়া জানতে ফিফার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।
ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো যখন ফুটবল প্রশাসনের বিভিন্ন মহল থেকে ক্রমবর্ধমান বিরোধিতার মুখে পড়েছেন ঠিক তখন আল-হুসেইন এমন অভিযোগ তুললেন।
জর্ডান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বলেন, সীমিত বাজেটের একটি ছোট দেশের ফুটবল সংস্থা হিসেবে তাদের নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
তিনি অভিযোগ করেন, সমর্থকদের ‘অস্বাভাবিক উচ্চমূল্যে টিকিট’ কিনতে হলেও তারা যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের জন্য ভিসা পাননি। এছাড়া ২০২৫ সালের ফিফা আয়োজিত আরব কাপে খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণের জন্য প্রাপ্য পুরস্কারের অর্থও এখনও পরিশোধ করা হয়নি।
এছাড়া তিনি অভিযোগ করেন, বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের কারণে ফিফার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র সরকার তাদের ওপর কর আরোপ করেছে, অথচ কানাডা ও মেক্সিকোতে অবস্থান করা দলগুলোর ক্ষেত্রে এমন ব্যয় বহন করতে হয়নি।
আল-হুসেইন বলেন, বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের জন্য ফিফার মাধ্যমে আমাদের যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে কর দিতে হচ্ছে। এই অর্থ খেলোয়াড় ও স্টাফদের কাছে যাওয়ার কথা ছিল।
তিনি আরও বলেন, যেসব দল কানাডা ও মেক্সিকোতে অবস্থান করেছিল, তাদের ক্ষেত্রে এমনটি হয়নি। কিন্তু আমরা যুক্তরাষ্ট্রে থাকায় অংশগ্রহণের জন্য এখন এই বিশাল করের বোঝা বহন করতে হচ্ছে।
জর্ডান ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করলেও গ্রুপপর্ব থেকেই বিদায় নেয়। এদিকে কাতারে অনুষ্ঠিত আরব কাপের ফাইনালে ওঠার জন্য প্রাপ্য পুরস্কারের অর্থও গত ডিসেম্বর থেকে এখনও পায়নি জর্ডান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন।