চট্টগ্রাম বহিঃনোঙ্গরে যৌথ অভিযান, ২৪ জেলেকে ৩০ দিনের কারাদণ্ড

চট্টগ্রাম বহিঃনোঙ্গরে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড, বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের যৌথ অভিযানে ৫০টির বেশি ফিশিং বোট তল্লাশি করে ২৪ জেলেকে আটক করা হয়েছে। পরে বন্দর ম্যাজিস্ট্রেট আটক প্রত্যেক জেলেকে ৩০ দিনের কারাদণ্ড দিয়েছেন।

বুধবার (১২ আগস্ট) বিকেলে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, দেশের সমুদ্রবন্দর, উপকূলীয় ও নদীতীরবর্তী এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি চট্টগ্রাম বন্দরের নৌপথে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে বুধবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত বহিঃনোঙ্গরে এ যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানে কোস্ট গার্ডের টহল জাহাজ বিসিজিএস সোনাদিয়া, একাধিক উচ্চগতিসম্পন্ন বোট এবং চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের দিশারী-০৭ অংশ নেয়। এ সময় কোস্ট গার্ড ও নৌবাহিনীর আভিযানিক দলের সদস্যদের পাশাপাশি বন্দর ম্যাজিস্ট্রেট উপস্থিত ছিলেন।

অভিযানকালে বহিঃনোঙ্গর ও কর্ণফুলী চ্যানেলে বাণিজ্যিক জাহাজ ও লাইটারের নিরাপদ চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী ফিশিং বোট শনাক্ত করা হয়। পাশাপাশি অবৈধভাবে স্থাপন করা বিভিন্ন ধরনের জাল শনাক্ত করে অপসারণ করা হয়।

কোস্ট গার্ড জানায়, এসব অবৈধ জাল ও অননুমোদিতভাবে অবস্থানরত ফিশিং বোটের কারণে নৌযান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। এতে বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে।

এ সময় বহিঃনোঙ্গরে অবৈধভাবে অবস্থানরত ৫০টির বেশি ফিশিং বোটে তল্লাশি চালানো হয়। অভিযানে মোট ২৪ জন জেলেকে আটক করা হলে পরবর্তীতে বন্দর ম্যাজিস্ট্রেট তাদের প্রত্যেককে ৩০ দিনের কারাদণ্ড দেন।

কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর ও বহিঃনোঙ্গরে দেশি-বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজ ও লাইটারের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা, সামুদ্রিক বাণিজ্য ও নৌপথ সচল রাখা এবং চুরি, অবৈধ জাল স্থাপনসহ বিভিন্ন ধরনের অপতৎপরতা প্রতিরোধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

তিনি আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দর ও বহিঃনোঙ্গরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে নিয়মিত অভিযান ও নজরদারি পরিচালনা করা হবে।