মীরসরাই ইকোনমিক জোনে ডাকাতি

৩২ ঘণ্টার অভিযানে ডাকাত দলের ৭ সদস্য গ্রেপ্তার, উদ্ধার ২৫০ মিটার বৈদ্যুতিক তার

চট্টগ্রামের মীরসরাই ইকোনমিক জোনে নির্মাণাধীন একটি কারখানায় ডাকাতির ঘটনায় জোরারগঞ্জ থানা পুলিশের টানা ৩২ ঘণ্টার অভিযানে সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লুণ্ঠিত প্রায় ২৫০ মিটার বৈদ্যুতিক তার উদ্ধার করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, গত ৯ আগস্ট রাত ২টা থেকে পৌনে ৩টার মধ্যে মীরসরাই ইকোনমিক জোনের বাংলাদেশ অটো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের নির্মাণাধীন কারখানায় ১০ থেকে ১৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল প্রবেশ করে। এ সময় তারা নিরাপত্তাকর্মীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে তিনটি মোবাইল ফোন, প্রায় ২৫০ মিটার বৈদ্যুতিক তারসহ বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।

ঘটনার পর জোরারগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটির তদন্তভার দেওয়া হয় এসআই আব্দুল্লাহ আল মাসুদকে।

ঘটনার পরপরই চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমের সার্বিক দিকনির্দেশনায়, মীরসরাই সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার নাদিম হায়দায় চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে এবং জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল হালিমের নেতৃত্বে অভিযান শুরু করে পুলিশ।

তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আব্দুল্লাহ আল মাসুদের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল মীরসরাই ইকোনমিক জোন ও আশপাশের এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান এবং গোয়েন্দা তৎপরতা চালায়। প্রায় ৩২ ঘণ্টার নিরবচ্ছিন্ন অভিযানের একপর্যায়ে ইকোনমিক জোন এলাকা থেকে ডাকাত দলের সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারদের মধ্যে মেহেদী হাসান, মো. রাকিব ও এমদাদুল হক ওরফে এমরানের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আজ ১০ আগস্ট ভোর পৌনে ৫টার দিকে ডাকাতির ঘটনায় লুণ্ঠিত প্রায় ২৫০ মিটার বৈদ্যুতিক তার উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মেহেদী হাসান (২৩), রাকিব (২১), সুজাউল হক ওরফে সুজা উল্লাহ (২৪), এমদাদুল হক ওরফে এমরান (২৮), মিজান উদ্দিন (৩২), সাখাওয়াত হোসেন ওরফে নাহিদ (২৪) এবং ইউসুফ (২৬)। তারা মীরসরাইয়ের জোরারগঞ্জ ও হিঙ্গুলী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।

পুলিশ জানিয়েছে, সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনায় জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। শিল্পাঞ্চল ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।