আগস্টেই চালু হচ্ছে ‘প্রবাসী কার্ড’, মিলবে রেমিট্যান্সে ৩% প্রণোদনা ও নানা বিশেষ সুবিধা

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে নাগরিক সেবা সম্প্রসারণে একের পর এক বিশেষায়িত কার্ড চালু করছে সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে প্রবাসীদের উৎসাহিত করতে চালু হচ্ছে ‘প্রবাসী কার্ড’। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী আগস্টের মাঝামাঝি সময়েই কার্ডটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হতে পারে।

এই কার্ডের মাধ্যমে প্রবাসীরা ডুয়েল কারেন্সি সুবিধা ও অনলাইন শপিংয়ের সুযোগ পাবেন। কার্ডটি দেশের পাশাপাশি বিদেশেও ব্যবহার করা যাবে।

এছাড়া কার্ডধারীরা বিমানবন্দরের লাউঞ্জ ব্যবহারের সুবিধা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিশেষ ডিসকাউন্ট, বিমান টিকিট ও হোটেল ভাড়ায় ছাড় পাবেন। দেশে গড়ে ওঠা বিভিন্ন প্রবাসী সিটি ও আবাসন প্রকল্পেও তাদের জন্য থাকবে বিশেষ অগ্রাধিকার।

প্রবাসী কার্ডের আওতায় বিএমইটি বীমা ও পুনর্বাসন সুবিধা, আর্থিক ক্ষতিপূরণ, সামাজিক সুরক্ষা এবং রেমিট্যান্সে অতিরিক্ত সরকারি প্রণোদনার ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে।

প্রবাসী কল্যাণ ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বলেন,

“বর্তমানে প্রবাসীদের জন্য যে আড়াই শতাংশ রেমিট্যান্স প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে, প্রবাসী কার্ডধারীদের জন্য তা ৩ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত রয়েছে। প্রাথমিকভাবে এ বছরের মধ্যে দুই লাখ প্রবাসীর হাতে এই কার্ড তুলে দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পরীক্ষামূলকভাবে প্রথম ধাপে কয়েকটি দেশে পাঁচ হাজার প্রবাসীকে কার্ড দেওয়া হবে। আমাদের লক্ষ্য, আগস্টের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যেই এটি চালু করা।”

সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন মালয়েশিয়া প্রবাসী পাভেল সারওয়ার। তিনি বলেন,

“প্রবাসী কার্ডে ঘোষিত সুযোগ-সুবিধাগুলো বাস্তবায়িত হলে বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রবণতা আরও বাড়বে। তবে অতীতে বিএমইটি কার্ড নিতে গিয়ে অনেক প্রবাসী হয়রানি ও জটিলতার মুখোমুখি হয়েছেন। আশা করি, নতুন এই কার্ডের ক্ষেত্রে সেই ধরনের কোনো সমস্যা থাকবে না।”

সরকার জানিয়েছে, পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সফল হলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে প্রবাসীদের হাতে প্রবাসী কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে।