অনুমোদিত পার্কিং অবমুক্তে উদ্যোগের আশ্বাস চউক চেয়ারম্যানের

চট্টগ্রাম নগরীর ক্রমবর্ধমান যানজট নিরসনে ভবনগুলোর অনুমোদিত নকশায় নির্ধারিত পার্কিং স্থান অবমুক্ত এবং পার্কিং এলাকায় গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (চউক) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) চউক কার্যালয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) ট্রাফিক বিভাগকে সহায়তাকারী শিক্ষার্থীদের সংগঠন ট্রাফিক অ্যাসিস্ট্যান্ট গ্রুপ (ট্যাগ)-এর সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ আশ্বাস দেন।

সভায় ট্যাগের সদস্যরা চউক চেয়ারম্যানের কাছে একটি স্মারকলিপি তুলে দেন। এতে নগরীর বিভিন্ন আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন, হাসপাতাল এবং বিপণিবিতানে অনুমোদিত নকশায় সংরক্ষিত পার্কিং স্থান অবমুক্ত করা, পার্কিং এলাকায় গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং ভবিষ্যতে পার্কিং অন্য কাজে ব্যবহার বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

ট্যাগের প্রতিনিধিরা জানান, তারা বর্তমানে সিএমপির ট্রাফিক বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে নগরীর ১৭টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় সহায়তা করছেন। মাঠপর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে তারা দেখেছেন, অনেক ভবনে অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী পার্কিংয়ের ব্যবস্থা থাকলেও সেসব স্থান দোকান, গুদাম কিংবা অন্যান্য বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে ভবনে আসা যানবাহন সড়কের ওপর পার্ক করতে বাধ্য হচ্ছে, যা নগরীর যানজট আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি) এবং চউকের বিধিমালা অনুযায়ী পার্কিং সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক হলেও অনেক ভবনে তা মানা হচ্ছে না। বিশেষ করে হাসপাতাল ও বাণিজ্যিক ভবনের সামনে অনিয়ন্ত্রিত পার্কিং নগরীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে।

মতবিনিময় সভায় চউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন বলেন, পরিকল্পিত নগর গড়ে তুলতে অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী পার্কিং নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। যানজট নিরসনে শুধু নতুন সড়ক নির্মাণ নয়, বিদ্যমান অবকাঠামোর যথাযথ ব্যবহারও নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি জানান, চউক ইতোমধ্যে বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও বাণিজ্যিক ভবনের পার্কিং ব্যবস্থা, অনুমোদিত নকশা এবং ইমারত নির্মাণ বিধিমালা প্রতিপালনের বিষয়টি পর্যালোচনার উদ্যোগ নিয়েছে। কোথাও নকশা লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শিক্ষার্থীদের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, “সিএমপির ট্রাফিক বিভাগকে সহায়তা করে ট্যাগ সদস্যরা যে জনসেবামূলক কাজ করছেন, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। মাঠপর্যায়ে কাজ করার কারণে নগরীর যানজটের বাস্তব চিত্র সম্পর্কে তাদের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাদের পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ নগর পরিকল্পনা এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।”

তিনি আরও বলেন, অনুমোদিত পার্কিং স্থান অবমুক্ত, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং পার্কিংয়ের অপব্যবহার বন্ধে চউক প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। একই সঙ্গে নগরীর যানজট নিরসনে চউক, সিএমপি এবং নাগরিক সমাজের সমন্বিত উদ্যোগ আরও জোরদার করা হবে।