রাজধানীর যানজট কমাতে মহাখালী টার্মিনালে থাকা অলস বাস সরাতে শুরু করেছে সরকার। পূর্বাচলের নবনির্মিত অস্থায়ী ডিপোতে রাখা হচ্ছে এগুলো। তবে বাস্তবতা পুরোপুরি ভিন্ন। বাস ডিপোর নির্মাণকাজ এক শতাংশও শেষ হয়নি। মহাখালী থেকে বাসগুলো নিয়ে রাখা হচ্ছে ৩ নম্বর সেক্টরের সড়কে। পুরো প্রক্রিয়াটিকে ‘প্রতীকী’ বলছেন পরিবহন-সংশ্লিষ্টরা। তবে মাসখানেকের মধ্যে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধাসহ পূর্বাচল ডিপো চালু হবে বলে আশাবাদী কর্তৃপক্ষ।
ঢাকার যানজট নিরসনে উদ্যোগী সরকার। দৃশ্যমান নানা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সড়কে আধুনিক ক্যামেরা স্থাপনের পর এবার স্থানান্তর হচ্ছে টার্মিনাল।১৫ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে টার্মিনাল স্থানান্তর কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। মহাখালী থেকে বাসগুলো সরিয়ে নেওয়া হয় পূর্বাচলের ৩ নম্বর সেক্টরের অস্থায়ী ডিপোতে।
ঢাকা থেকে হাতে গোনা কয়েকটি বাস এনে রাখা হয়েছে সড়কের ওপরই। বাস সরানোর এই প্রক্রিয়াকে সাময়িক বলছেন সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক। তবে মাসখানেকের মধ্যে পূর্বাচল ডিপোটি পুরোপুরি চালু হবে বলে আশা তার।
ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম বলেন, ‘এখান থেকে টার্মিনাল স্থানান্তর হয়নি। যাত্রীদেরও কোনো অসুবিধা হয়নি। শুধু অলস বা আইডল গাড়িগুলো ডিপো হিসেবে ওখানে থাকবে। এটাও বাধ্যতামূলক নয়। বিকল্প রাখা হয়েছে। টার্মিনাল-সংলগ্ন এলাকায় না রেখে কেউ যদি দূরে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় রাখতে পারে, রাখবে। পার্মানেন্ট স্ট্রাকচার তৈরি হওয়ার আগ পর্যন্ত অস্থায়ীভাবে যাতে ডিপো হিসেবে ব্যবহার করা যায়, সে লক্ষ্যে কিছু কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
সব বাস নয়, মহাখালী থেকে সরানো হচ্ছে অলস বাস এমনটাই জানালেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।ট্রাফিক বিভাগের পরিদর্শক ওমর ফারুক বলেন, ‘আমাদের কিছু গাড়ি থাকে, যেগুলো নাইটে চলে। রাতে এসে তারা সারাদিন রাস্তাঘাটে গাড়ি রাখত। এর ফলে মহাখালী টার্মিনাল এলাকায় সব সময় যানজট লেগে থাকত। এখন ওই গাড়িগুলো আমরা ডিপোতে সরিয়ে দিচ্ছি। ফলে আপনারা দেখতে পারবেন, রাস্তাঘাটে আর সেভাবে গাড়ি দাঁড়িয়ে নেই। কোনো গাড়ি থামিয়ে বা বসিয়ে রাখা হচ্ছে না। যার ফলে রাস্তা অনেকটা স্মুথ হয়েছে। ভালোভাবে যান চলাচল করছে।’
তথ্য বলছে, মহাখালী টার্মিনালে আনুমানিক বাস দেড় হাজার। যার মধ্যে ৯০০টি চলাচল করলেও অলস পড়ে থাকে বাকিগুলো। সেগুলো টার্মিনাল বা আশপাশের এলাকায় পার্কিং করা হয়। পুলিশ বলছে, সদিচ্ছা আর পরিবহন-সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা পেলে সড়ক ফাঁকা করা সম্ভব।
ওমর ফারুক আরও বলেন, ‘কিছু গাড়ি হয়তো বন্ধ থাকে, কিছু গাড়ি চলে। যে গাড়িগুলো বন্ধ থাকে, সেগুলো আগে টার্মিনালের ভেতরে থাকত। এখন যেহেতু ওই গাড়িগুলো ডিপোতে চলে যাবে, সেগুলো চলে যাওয়ার পরে টার্মিনালে আসা গাড়িগুলো খুব সহজেই ভেতরে ঢুকিয়ে দিতে পারছি।’
আপাতত পূর্বাচলে অতিরিক্ত বাস স্থানান্তরের মাধ্যমে মহাখালীতে যানজট কমানোর পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সরকারের এই উদ্যোগ কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে নতুন ডিপোর নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা এবং পরিকল্পনার সফল বাস্তবায়নের ওপর।