সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজী বিহারী ক্যাম্প এলাকার কনস্ট্রাকশন ব্যবসায়ী রমজানকে আবারও মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে ফাঁসানো এবং সুনাম ক্ষুন্ন করার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে। এলাকার মাদকবিরোধী কার্যক্রমে জড়িত থাকার কারণে ওই মহলটি রমজানের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে হয়রানি করার ষড়যন্ত্র করছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।একটি প্রভাবশালী মহল গনমাধ্যম কর্মীদের মিথ্যা তথ্য দিয়ে প্রভাবিত করে অনলাইন গণমাধ্যম ও স্থানীয় পত্রিকায় মিথ্যাচার চালাচ্ছে। প্রভাবশালী মহলটি মিথ্যা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে রমজান কে সামাজিক ভাবে হেয় প্রতিপন্ন করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তারা প্রশাসনকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে যে কোন সময় তাকে হয়রানী করা হতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন এই ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী রমজান।
এদিকে এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানাগেছে, বিহারী ক্যাম্প এলাকার মানুষের বিপদে আপদে সুখে দু:খে ব্যবসায়ী রমজান কে পাওয়া যায়। ঠিকাদারী ব্যবসা করে রমজান অসহায় মানুষের সেবায় নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছেন। গত ২০২৪ সালের পাঁচ আগষ্ট গণঅভূত্থানে আওয়ামী লীগ পতনের পর বিহারী ক্যাম্প এলাকায় রমজানকে নিয়ে একটি মাদকের শক্তিশালী সিন্ডিকেট তার ক্ষতি সাধনে উঠে পরে লাগে। তাঁকে মাদকের মামলায় ফাঁসিয়ে দিতে নানা রকম ফন্দি ফিকির করতে থাকেন। এই সিন্ডিকেটের অন্যতম হোতা বিহারী ক্যাম্পের মাদকের ডিলার নামে পরিচিত মাদক সম্রাট বাবলা ও তার সেকেন্ড ইন কমান্ড তার ভাই মিঠুন।
যারা ওই বিহারী ক্যাম্প এলাকায় মাদকের বিস্তার ঘটাচ্ছে। তারা দিনকে দিন মাদকের ভয়াল থাবায় এলাকার যুবক, কোমলমতি সন্তানদের ভবিষৎ নষ্ট করছে। ওদের বিরুদ্ধে মুখ খুললেই ওই ব্যক্তির উপর নেমে আসে হামলা, মামলা ও মানসিক অশান্তি।
তাহসিন নামে বিহারি ক্যাম্প এলাকার এক বাসিন্দা জানান, বাবলা ও তার সিন্ডিকেট পুরো বিহারী ক্যাম্প এলাকাকে মাদকের জোয়ারে ভাসিয়ে দিয়েছে। তাঁদের নেতৃত্বে বিহারী ক্যাম্পের সকল অলিগলিতে মাদকের বিস্তার ঘটাচ্ছে। বাবলা বর্তমানে জেল হাজতে থাকলেও তার মাদক সিন্ডিকেট থেমে নেই।
ভুক্তভোগী ঠিকাদার মো: রমজান জানায়, আমার বাড়ি আদমজী সুমিলপাড়া বিহারী ক্যাম্প এলাকায়। আমি এলাকায় থাকি না প্রায় চার বছর। আমি একসময় এলাকায় ডিশের ব্যবসা পরিচালনা করতাম। এ ব্যবসা করতে গিয়ে বিভিন্ন সময় নানান ঝামেলা পোহাতে হত। তাই এই ব্যবসা ছেড়ে দিয়ে আদমজী ইপিজেডে কন্ট্রাকের মাধ্যমে নির্মাণ কাজের শ্রমিক সরবরাহ এবং পুরাতন বিল্ডিং ভাঙ্গার কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছি। আমি কোন অবৈধ ব্যবসা বা অনৈতিক কাজে সম্পৃক্ত নই। কিন্তু কিছুদিন যাবৎ একটি প্রভাবশালী মহল পর্দার আড়ালে থেকে আমাকে নিয়ে নানান চক্রান্ত চালিয়ে যাচ্ছে। ওই মহলটি আমাকে মাদক ব্যবসায়ী বানিয়ে মিথ্যাচার চালিয়ে সমাজে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য উঠে পরে লেগেছে। আমাকে সরিয়ে দিতে পারলে তারা আমার ব্যবসাটি দখল করতে পারবে। এলাকার মানুষ জানে আমি কি করে জীবন যাপন করি। আমি ডিশের ব্যবসা ছেড়ে দেওয়ার পর ২০২৩ সাল থেকে নারায়ণগঞ্জ শহরে বসবাস করি। সেখান থেকেই আদমজী ইপিজেডে যাতায়াত করে ব্যবসা পরিচালনা করে থাকি। মাসে দুই একবার সুমিলপাড়া গিয়ে আমার মা বাবার সাথে দেখা করে আসি। অথচ ওই মহলটি গনমাধ্যম কর্মীদেরকে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে অনলাইন ও স্থানীয় লোকাল পত্রিকায় মিথ্যাচার চালিয়ে যাচ্ছে। ভুক্তভোগী রমজান গণমাধ্যম কর্মী ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষন করে জানায়, আমি একজন ব্যবসায়ী, ব্যবসা করেই জীবিকা নির্বাহ করে থাকি। আমি কখনো মাদকের সাথে সম্পৃক্ত নই। অনুসন্ধান করে প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হউক। আমার নামে কোনো মাদক মামলা নেই। তাহলে আইন কেনো আমাকে হয়রানি করবে। প্রভাবশালী মহলের ইন্ধনে যেন কোন নীরিহ মানুষ হয়রানীর শিকার না হয় সে বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য প্রশাসন ও গনমাধ্যম কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এমদাদুল হক জানান, আদমজী বিহারী ক্যাম্পে মাদকের বিস্তার রোধে আমরা কাজ করছি। মাদকের সিন্ডিকেট ধরতে আমরা সাড়াশি অভিযান পরিচালনা করবো। সকল মাদক ব্যবসায়ীকেই আইনের আওতায় আনা হবে।