পদ্মা নদীতে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, পানি কমেছে ৬ সেন্টিমিটার

চাঁপাইনবাবগঞ্জের পদ্মা নদীতে গত ১২ ঘণ্টায় বন্যার উন্নতি হয়েছে। পানি কমেছে ৬ সেন্টিমিটার। তবে জেলার অপর দুই নদী মহানন্দা ও পুনর্ভবায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পদ্মা নদীর পাঙ্খা পয়েন্টে শনিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে থেকে রোববার ভোর ৬টা পর্যন্ত ৬ সেন্টিমিটার পানি কমেছে। বর্তমানে পাঙ্খা পয়েন্টে পানির স্তর ২১ দশমিক ৭৩ মিটার, যা বিপৎসীমার ৩২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গতকাল পাঙ্খা পয়েন্টে পানির স্তর ছিল ২১ দশমিক ৭৯ মিটার।
তবে এখনও নিম্নাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ কাটেনি। এরই মধ্যে জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৪ হাজার ৩০০ পরিবার পানিবন্দী রয়েছে। রোববার সকালে উপজেলা প্রশাসনের দেওয়া তথ্য থেকে এসব জানা যায়। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় মহানন্দা নদীতে তিন সেন্টিমিটার ও পুনর্ভবা নদীতে চার সেন্টিমিটার করে পানি বেড়েছে।
ইতোমধ্যে জেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে প্রায় ৪ হাজার ৩০০ পরিবার পানিবন্দী। তার মধ্যে অনেক পরিবার বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। আবার কেউ কেউ ঘরের ভেতর হাঁটুপানির মধ্যেই বসবাস করছেন। পানিবন্দী এসব মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে রান্না, খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে। কর্মহীন হয়ে পড়েছেন অনেক দিনমজুর ও নিম্নআয়ের মানুষ।
বন্যার পানি শুধু মানুষের বসতবাড়িতেই সীমাবদ্ধ নেই, এর প্রভাব পড়েছে শিক্ষা কার্যক্রমেও। জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ২৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বিকল্প স্থানে ক্লাস কার্যক্রম শুরু করলেও অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এখনো পাঠদান ব্যাহত। এতে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনা করতে পারছে না।
শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম বলেন, পানিবন্দী মানুষের মধ্যে দুই দিন ধরে ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে। দুইদিনে প্রায় ২৬ মেট্রিকটন চাল প্রদান করা হয়েছে। খাবার স্যালাইন ও শুকনা খাবারের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। পাশাপাশি আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কেউ আশ্রয়কেন্দ্রে আসেনি। তবে পরিস্থিতির অবনতি হলে দ্রুত তাদের সেখানে নেয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম আহসান হাবীব বলেন, পদ্মা নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। আশা করা হচ্ছে, আজকের পর থেকে পদ্মা নদীর পানি ধারাবাহিকভাবে কমতে শুরু করবে। বড় ধরনের বন্যার শঙ্কা নেই।