চকবাজারে বাসার তালা ভেঙে ১২ লাখ টাকার স্বর্ণ চুরি, গ্রেপ্তার ২

চট্টগ্রাম নগরীর চকবাজারে বাসার তালার হুক ভেঙে প্রায় ১২ লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার চুরির ঘটনায় সংঘবদ্ধ চোরচক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হাটহাজারীর আমান বাজারের একটি জুয়েলারি দোকান থেকে চোরাই স্বর্ণ গলিয়ে তৈরি করা ১২টি আংটি, ছয় জোড়া কানের দুল ও দুটি চেইন উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তাররা হলেন— কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার রহমত ওরফে হাসান (২৯) এবং চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার সাজ্জাদ হোসেন ওরফে অর্পূ (২৭)। তারা নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানার ড্রিমল্যান্ড আবাসিক এলাকায় বসবাস করতেন।

পুলিশ জানায়, গত ২৬ জুলাই সকাল ৮টা থেকে ২৭ জুলাই বিকেল ৫টার মধ্যে চকবাজার থানার ডিসি রোডের কালাম কলোনির হক ম্যানশনের নিচতলায় এরফানুল হকের বাসায় কেউ না থাকার সুযোগে চোরচক্রের সদস্যরা প্রধান দরজার তালার হুক ভেঙে প্রবেশ করে। পরে তারা প্রায় ছয় ভরি স্বর্ণালংকার চুরি করে নিয়ে যায়। চুরি হওয়া স্বর্ণের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১২ লাখ টাকা।

এ ঘটনায় ২৯ জুলাই চকবাজার থানায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলার তদন্তে চকবাজার পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মো. গিয়াস উদ্দিন সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার শতাধিক সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করেন। ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তদন্তের মাধ্যমে রহমত ওরফে হাসান ও সাজ্জাদ হোসেন ওরফে অর্পূর সম্পৃক্ততা শনাক্ত করা হয়। পুলিশ জানতে পারে, তারা মোটরসাইকেলে এসে বাসার তালার হুক ভেঙে চুরি করে।

এরপর শনিবার (১৫ আগস্ট) বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে বায়েজিদ বোস্তামী থানার ড্রিমল্যান্ড আবাসিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হাটহাজারী থানার আমান বাজারের বিএন জুয়েলার্সে অভিযান চালায় পুলিশ। সেখানে গ্রেপ্তারদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে দোকান মালিকের উপস্থাপনায় চোরাই স্বর্ণ গলিয়ে তৈরি করা ১২টি স্বর্ণের আংটি, ছয় জোড়া কানের দুল ও দুটি স্বর্ণের চেইন উদ্ধার করা হয়। এ সময় রহমত ওরফে হাসানের জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি এবং স্বর্ণ কেনাবেচা সংক্রান্ত রেজিস্টারের একটি পাতা জব্দ করা হয়।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গ্রেপ্তার দুজন নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বাসাবাড়িতে প্রবেশ করে স্বর্ণালংকার, নগদ অর্থসহ মূল্যবান সামগ্রী চুরির সঙ্গে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ পেশাদার চোরচক্রের সক্রিয় সদস্য।

চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং চোরাই মালামাল উদ্ধারে অভিযান ও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পর আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।