ডিজিটাল নিরাপত্তায় ঝুঁকি এড়াতে ভারত নির্ভরতা কমানোর পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের

ইন্টারনেটের কল্যাণে গোটা বিশ্ব এখন হাতের মুঠোয়। যেখানে এক ক্লিকেই মেলে পুরো দুনিয়া।যে ব্যান্ডউইথের মাধ্যমে মেলে এই ইন্টারনেট সুবিধা, সেটির সুরক্ষা দরকার সবার আগে। একইসঙ্গে প্রয়োজন ব্যান্ডউইথ সরবরাহের একাধিক উৎস।
আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট সংযোগে বাংলাদেশ যুক্ত হয়েছে, দুটি সাবমেরিন ও একটি স্থলপথের অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল নেটওয়ার্কে। SEA-ME-WE-4 ও SEA-ME-WE-5 সাবমেরিন ক্যাবল দিয়ে ৪০ শতাংশ ব্যান্ডউইথ পায় বাংলাদেশ। বাকি ৬০ শতাংশ আসে ভারতের ভেতর দিয়ে স্থলপথে ইন্টারন্যাশনাল টেরেস্ট্রিয়াল ক্যাবল-আইটিসির মাধ্যমে। ভারতের ওপর এই নির্ভরশীলতাকে বড় ধরনের নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনাগত ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
মেটাকোর সাবকম লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আমিনুল হাকিম বলেন, বাংলাদেশে টোটাল ইন্টারনেটটা ভারত নির্ভর হয়ে গেছে। ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ ব্যান্ডউইথ ইন্ডিয়া থেকে আমদানি করতে হচ্ছে। যেটাতে সবচেয়ে সিকিউরিটি কনসার্ন হচ্ছে যে ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব খর্ব হচ্ছে। যে ব্যান্ডউইথটা বাংলাদেশে প্রবেশ করে ওনাদের বাই ডিফল্ট বাই ল’ প্রত্যেকটা অপারেটর ইন্টারন্যাশনাল ব্যান্ডউইথ এক্সপোর্ট করতে গেলে ওনাদেরকে ডিপ প্যাকেট ইন্সপেকশন ডিভাইস ইনস্টল করতে হয়। তার মানে ডিপ প্যাকেট ইন্সপেকশন ডিভাইসগুলিতে আপনার কোন ধরনের ডাটা যাচ্ছে, ইমেইলের হেডার কি, ইমেইলের বডি কি, কি ধরনের টেক্সট আদান প্রদান হচ্ছে সবকিছু তারা ট্যাপিং করতে পারে কিংবা মনিটরিং করতে পারে।
ইন্টারনেট সংযোগ ইস্যুতে দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল ভুটান। বাকি সবাই একাধিক উৎস ব্যবহার করে। এছাড়া পাকিস্তানের ৯টি, শ্রীলঙ্কার ৯টি ও মালদ্বীপের ৫টি সাবমেরিন ক্যাবল সংযোগ রয়েছে। তারা ভারত তো নয়ই, কোনো একক দেশের ওপরই নির্ভরশীল নয়। তাই বাংলাদেশের জন্য দ্রুতই সাবমেরিন ক্যাবলের সংখ্যা বাড়ানোর পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।
বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলসের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মশিউর রহমান বলেন, এখন যদি কোনো নতুন কেবল না আসে তাহলে কিন্তু আমদানিটা বাড়তেই থাকবে। আর আমরা যে একটা ফোরকাস্ট করা হয় সে হিসাবে আগামী ২০৩১/৩২ সালে দেশে ব্যান্ডউইথের চাহিদা প্রায় ৭০ টিবিপিএস এ দাঁড়াবে। সেই সময়ে SEA-ME-WE-4 কিন্তু থাকবে না। তখন থাকবে SEA-ME-WE-6 আর SEA-ME-WE-5। এই দুইটা মিলে পূর্বমুখী সক্ষমতা ১৫ আর ১৭.৫। এই সময়ে যদি প্রাইভেট সাবমেরিন কেবলটা না থাকে তাহলে কিন্তু আমাদের ব্যান্ডউইথ মার্কেটটা চলে যাবে। বিদেশি দেশের পুরা দখলে চলে যাবে।
সরকারিভাবে SEA-ME-WE-6 ক্যাবল সংযোগের প্রস্তুতি চলছে।যা আগামী বছরের মধ্যে সংযুক্ত হতে পারে।এছাড়া, বেসরকারিভাবে সরকারের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে, আরও তিনটি সাবমেরিন ক্যাবলের সংযোগ।