চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার মাইটভাঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপি নেতা ওমর ফারুক সুজন মেম্বারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক ও মিথ্যা অভিযোগ তোলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার বিকেলে মাইটভাঙ্গা ইউনিয়নের চৌধুরী বাজার এলাকায় স্থানীয় এলাকাবাসীর ব্যানারে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাঁর বিরুদ্ধে করা সংবাদ সম্মেলনের প্রতিবাদে স্থানীয়দের অংশগ্রহণে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ওমর ফারুক সুজন মেম্বার। তিনি বলেন, গত ৬ সেপ্টেম্বর সন্দ্বীপ ও নোয়াখালীর কয়েকজন ব্যক্তি তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। সেখানে তাঁর বাহিনীর বিরুদ্ধে সারিকাইত ইউনিয়নের জেলেদের মারধর করে মোবাইল ফোন, জালসহ প্রায় ৩০ লাখ টাকার মালামাল ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করা হয়।
ওমর ফারুক সুজন এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “গত ৬ সেপ্টেম্বর সন্দ্বীপ ও নোয়াখালীর কিছু চিহ্নিত জলদস্যু বাহিনীর প্রধান আমার বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যমূলক অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।”
তিনি বলেন, গত ৩০ বছর ধরে তিনি সাগরে ফিশিং বোটের ব্যবসা করছেন। বর্তমানে তাঁর আটটি ফিশিং বোট সাগরে মাছ আহরণ করছে এবং তাঁর ব্যবসার সঙ্গে সন্দ্বীপ ও নোয়াখালীর প্রায় ২৫০ জন জেলে যুক্ত রয়েছেন।
সুজন মেম্বার আরও দাবি করেন, ২০০৮ সালে ভাসানচরে তাঁর একটি ঘেরজাল ছিল। বিগত সরকারের আমলে নোয়াখালীর কয়েকজন চিহ্নিত জলদস্যু তাঁর ওই জাল দখল করে নেয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তিনি সেটি উদ্ধার করে পুনরায় ব্যবসা পরিচালনা করছেন। ওই জাল আবার দখলের চেষ্টা থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
এদিকে, মাইটভাঙ্গা ও সারিকাইত ইউনিয়নের নদীর সীমানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। নদীতে জাল বসানো ও দখলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনাও ঘটেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
তবে সুজন মেম্বারের বিরুদ্ধে গত ৬ সেপ্টেম্বর সংবাদ সম্মেলনে করা অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য এ প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।