শিশুদের পেটে ইয়াবা পাচার, চক্রের মূলহোতা আটক
৯ ও ১২ বছরের দুই শিশুর পেট থেকে ৬ হাজার ৬১৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার
চট্টগ্রামের আনোয়ারায় শিশুদের পেটে ইয়াবা ঢুকিয়ে পাচারের সময় চক্রের মূলহোতা শারমিন আকতার প্রকাশ ইসমত আরা (৪০) নামে এক নারীকে আটক করেছে র্যাব-৭। এ সময় আইনের সঙ্গে সংঘাতে জড়িত ৯ ও ১২ বছর বয়সী দুই শিশুকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার মাধ্যমে দুই শিশুর পেট থেকে ৬ হাজার ৬১৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার ও জব্দ করা হয়।
র্যাব-৭ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে, একদল মাদক কারবারি ইয়াবার চালান নিয়ে সিএনজি অটোরিকশাযোগে কক্সবাজারের উখিয়া থেকে চট্টগ্রাম শহরের দিকে আসছে। এর ভিত্তিতে গত ৫ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১১টার দিকে র্যাব-৭-এর একটি দল চট্টগ্রামের আনোয়ারা থানাধীন সরকারহাটের তৈলার দ্বীপ সেতু সংলগ্ন গরুর বাজার এলাকায় বাঁশখালী-আনোয়ারা-চট্টগ্রাম সড়কে অস্থায়ী চেকপোস্ট বসিয়ে সন্দেহভাজন যানবাহনে তল্লাশি চালায়।
তল্লাশির সময় একটি সিএনজি অটোরিকশা সেখানে পৌঁছালে যাত্রী সিটে থাকা শারমিন আকতার প্রকাশ ইসমত আরাকে আটক করা হয়। একই সঙ্গে ৯ ও ১২ বছর বয়সী দুই শিশুকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয় র্যাব।
পরে শারমিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি জানান, উদ্ধার করা দুই শিশুর পেটের ভেতরে ইয়াবা বহন করা হচ্ছে। এরপর শিশুদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ৬ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা ৪৫ মিনিটে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে এক্স-রে পরীক্ষায় তাদের পেটের ভেতরে ইয়াবা ট্যাবলেট সদৃশ বস্তু শনাক্ত হয়।
র্যাব জানায়, ৬ সেপ্টেম্বর থেকে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চিকিৎসকদের সহায়তায় মলত্যাগের মাধ্যমে দুই শিশুর পেট থেকে ইয়াবার প্যাকেটগুলো বের করা হয়। ৯ বছর বয়সী শিশুটির পেট থেকে স্বচ্ছ পলিপ্যাকে কালো স্কচটেপে মোড়ানো জাম সদৃশ ৬৭টি ইয়াবার পোটলা এবং ১২ বছর বয়সী শিশুটির পেট থেকে একইভাবে মোড়ানো ৬৬টি পোটলা উদ্ধার করা হয়। এসব পোটলা থেকে সর্বমোট ৬ হাজার ৬১৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার ও জব্দ করা হয়েছে। উদ্ধার করা ইয়াবার আনুমানিক মূল্য প্রায় ২০ লাখ টাকা।
জিজ্ঞাসাবাদে শারমিন র্যাবকে আরও জানান, তিনি কক্সবাজারের উখিয়া থেকে ইয়াবা কিনে পরিবহনের সুবিধার্থে দুই শিশুকে কৌশলে ইয়াবা খাইয়ে চট্টগ্রাম শহরে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে আসছিলেন। এর আগেও একই দুই শিশুর পেটের ভেতর ইয়াবা বহন করিয়ে উখিয়া থেকে চট্টগ্রাম শহরে অন্তত দুইবার চালান পৌঁছে দিয়েছেন বলে তিনি স্বীকার করেন।
র্যাব-৭ জানিয়েছে, আটক শারমিন আকতার, হেফাজতে নেওয়া দুই শিশু এবং জব্দ করা মাদকদ্রব্যের বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।