শিবালয়ে পল্লী বিদ্যুতের ভুতুড়ে বিলের বোঝা: বিলিং বহি ঘষামাজা ও ঘটনা চাপা দেওয়ার অপচেষ্টা বিলিং সুপারভাইজার সেলিনার

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার সমেজঘর তেওতা এলাকার ক্ষুদ্র শিল্প গ্রাহক মোছা. খালেদা ইয়াসমিন। চলতি বছরের জুন মাসে তাঁদের খামারে ব্যবহৃত বিদ্যুৎ ছিল মাত্র ৪৭ ইউনিট। বিগত ছয় মাসের গড় বিদ্যুৎ খরচও ছিল প্রায় ১৪৮ ইউনিট। অথচ জুলাই মাসের বিলেই একলাফে ব্যবহৃত ইউনিট দেখানো হয়েছে ১০২৮ ইউনিট—যা স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি!

 

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এটি কেবল একটি পৃথক ঘটনা নয়; শিবালয় সাব জোনাল অফিসের অধীনে থাকা হাজার হাজার গ্রাহক প্রতিনিয়ত এমন ভুতুড়ে বিলের শিকার হচ্ছেন। আর এর নেপথ্যে উঠে এসেছে কার্যালয়ের বিলিং সুপারভাইজার সেলিনা আক্তারের চরম গাফিলতি, জালিয়াতি ও অপেশাদার আচরণ।

মঙ্গলবার সরেজমিনে তদন্তকালে বিলিং কাগজ ও রেজিস্টার বহি মিলিয়ে দেখতে গেলে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে। বিলিং সুপারভাইজার সেলিনা আক্তারকে তথ্যের অসঙ্গতি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি মূল বিলিং বহিতে কাটা-ছেঁড়া ও ঘষামাজা করে তথ্য বিকৃত করার চেষ্টা করেন। নিজের ভুল স্বীকার করার বদলে তিনি গ্রাহককে বাধ্য করে বলেন, “বিল তো দেবেনই, তাই বিল দিয়ে দেন।”

একপর্যায়ে ঘটনা জানাজানি হলে এবং সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য এই প্রতিবেদককে কাকুতি-মিনতি করে সেলিনা আক্তার বলেন, “সংবাদ প্রকাশ কইরেন না, সংবাদ প্রকাশ হলে আমার চাকরি চলে যাবে।”

অফিসের ভেতরের পরিবেশ অনুসন্ধান করতে গেলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক কর্মকর্তা সেলিনা আক্তারের চরম গাফিলতি ও গ্রাহকদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, “সেলিনা আক্তারের অবহেলা ও স্বেচ্ছাচারিতার কারণে সাধারণ মানুষ প্রতিদিন অফিসে এসে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। তাঁর এমন আচরণে অফিসের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে এবং আমরা সহকর্মীরাও তাঁর সার্বিক কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ ও ভুক্তভোগী।”

পল্লী বিদ্যুতের নিয়ম অনুযায়ী প্রতি মাসে নিয়মিত মিটারের রিডিং দেখে বিল প্রস্তুত করার কথা থাকলেও মাঠপর্যায়ে ও অফিসে বসে অনুমানের ভিত্তিতে বা গড় রিডিং বসানো হয়। পরে হঠাৎ সব বকেয়া রিডিং এক মাসে যোগ করার কারণে গ্রাহকের বিলের হিসাব স্ল্যাব ডিঙিয়ে উচ্চ হারে পৌঁছে যায়। এর প্রতিবাদ করতে অফিসে গেলে বিলিং সুপারভাইজার সেলিনা আক্তারের কাছে উল্টো দুর্ব্যবহার ও অপমানের শিকার হতে হয় বলে স্থানীয় ভুক্তভোগীরা জানান।

সার্বিক অনিয়ম ও সেলিনা আক্তারের অপেশাদার আচরণের বিষয়ে শিবালয় সাব জোনাল অফিসের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (এজিএম) মো. মিজানুর রহমান -এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হলাম। সেলিনা আক্তারের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

ভুক্তভোগী সাধারণ গ্রাহক ও সুশীল সমাজের দাবি, অবিলম্বে এসব ভুতুড়ে বিল সংশোধন করে প্রকৃত রিডিং অনুযায়ী বিল পুনঃনির্ধারণ করতে হবে এবং গ্রাহক হয়রানি বন্ধে দায়িত্বহীন বিলিং সুপারভাইজার সেলিনা আক্তারের বিরুদ্ধে দ্রুত বিভাগীয় ও আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে।