শত বছরের পুরাতন মসজিদ দেওয়ান আলী জামে মসজিদ ভাংচুর ও লুটপাট করেছেন শীর্ষ সন্ত্রাসী মোহাম্মদ সেলিম পিতা ফয়জুল কবির
চট্টগ্রামের পশ্চিম আমিরাবাদ এলাকায় একটি মসজিদের নির্মাণকাজ ও ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে চাঁদা দাবি, হামলা, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, মসজিদের নির্মাণকাজ অব্যাহত রাখতে হলে অভিযুক্তদের ২০ লাখ টাকা চাঁদা দিতে হবে; অন্যথায় মসজিদের গেটে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
অভিযোগপত্র ও সংযুক্ত নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, পশ্চিম আমিরাবাদ দেওয়ান আলী মসজিদ ও ওয়াক্ফ এস্টেটের ব্যবস্থাপনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। অভিযোগকারীর দাবি, ওয়াক্ফ প্রশাসনের অনুমোদিত কমিটি দায়িত্ব পালন করে আসছে এবং স্থানীয় মুসল্লি ও এলাকাবাসীর সহযোগিতায় মসজিদের নির্মাণকাজ পরিচালিত হচ্ছে।
অভিযোগে বলা হয়, মসজিদের নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার পর অভিযুক্তরা বিভিন্ন সময়ে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। একপর্যায়ে তারা নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেন। অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, নির্মাণকাজ চালু রাখতে হলে ২০ লাখ টাকা দিতে হবে বলে চাপ সৃষ্টি করা হয়। এ নিয়ে প্রতিবাদ করায় কয়েকজনকে মারধর এবং ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, গত ১৪ আগস্ট ২০২৬ দুপুরের দিকে জুমার ওয়াক্তে অভিযুক্ত কয়েকজন মসজিদে প্রবেশ করে ইমামকে খুতবা দিতে বাধা দেন এবং মুসল্লিদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। এ সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তাদের আচরণের প্রতিবাদ করা হয়। অভিযোগকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, পরবর্তী সময়ে অভিযুক্তরা মসজিদের বাইরে অবস্থান নিয়ে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন।
অভিযোগের আরও একটি অংশে বলা হয়েছে, একই দিন সন্ধ্যার দিকে কয়েকজন ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র ও লোহার রড নিয়ে মসজিদ এলাকায় প্রবেশ করেন। তারা মসজিদের প্রধান ফটক, জানালা ও অন্যান্য স্থাপনায় আঘাত করে ক্ষতিসাধন করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে মসজিদের ব্যানারসহ বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ সময় মুসল্লিদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগকারীর দাবি, ঘটনার আগে ও পরে অভিযুক্তরা মসজিদ ও ওয়াক্ফ এস্টেটের জায়গায় অনধিকার প্রবেশ করে ব্যবস্থাপনায় হস্তক্ষেপের চেষ্টা করেন। এমনকি বাদীপক্ষের কাছ থেকে চার লাখ টাকা দাবি এবং টাকা না দিলে বিভিন্ন ধরনের ক্ষতির হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, মসজিদ ও ওয়াক্ফ সম্পত্তির মালিকানা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে সংশ্লিষ্ট আদালতে মামলা ও কার্যক্রম চলমান রয়েছে। নথিতে ওয়াক্ফ প্রশাসনের বিভিন্ন কাগজপত্র, কমিটির অনুমোদনসংক্রান্ত নথি, মামলা ও ওয়ারেন্টের কাগজপত্র এবং মসজিদের ছবি সংযুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।
অভিযোগকারীর দাবি, ওয়াক্ফ প্রশাসনের তদন্ত ও প্রতিবেদনেও পূর্বে তাদের বিরুদ্ধে করা অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। এরপরও একটি পক্ষ মসজিদ নির্মাণ ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি করে আসছে।
১-মোহাম্মদ সেলিম,পিতা ফয়জুল কবির,২-আবুল কালাম
পিতা মৃত সিকান্দর,৩-নুর হেলাল মোস্তফা আলী ওবায়দুল্লাহ (৪৯) পিতা মৃত মোঃ ওবায়দুল হাকিম, ৪-রেজাউল করিম (৪৫) পিতা মৃত ফোরক আহমদ ৫-ফরিদুল ইসলাম (৬০) মৃত বেলায়ত আলী ৬-মোঃ আমিন মৃত জালাল আহমেদ ৭-আওরঙ্গজেব (সাগর)(৪২) পিতা মৃত মোঃ ইউনুছ
৮-মোঃ শামশুল আজম (৩৬) পিতা মৃত ওবায়দুল হাকিম সহ অজ্ঞাতনামা ৫/৬ জনের বিরুদ্ধে লোহাগাড়া থানা ও চট্টগ্রাম চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করা হয়েছে
এ ঘটনায় অভিযোগকারীর পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া, মসজিদ ও ওয়াক্ফ সম্পত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নির্মাণকাজ নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করার দাবি জানানো হয়েছে।
তবে অভিযোগে উত্থাপিত এসব বক্তব্যের স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযুক্তদের বক্তব্যও জানা যায়নি। ফলে অভিযোগের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, ওয়াক্ফ প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট আদালতের নথিপত্রের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপই প্রকৃত ঘটনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।