আকস্মিক ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে খাগড়াছড়ির বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। মাত্র তিন ঘণ্টায় ১০৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ডের পর মাইনী ও চেঙ্গী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে খাগড়াছড়ি সদর ও দীঘিনালার বিভিন্ন এলাকায় ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে। দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো মানুষ।
শনিবার (২২ আগস্ট) সকালে খাগড়াছড়ি পৌরসভার মুসলিমপাড়া, নিচের বাজার ও মেহেদীবাগ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, অনেক বাড়ির ভেতর পানি ঢুকে গেছে। আকস্মিকভাবে পানি বাড়ায় প্রয়োজনীয় মালামালও নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাননি অনেকে। কেউ কেউ ঘর ছেড়ে রাস্তা ও উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন।
মেহেদীবাগের বাসিন্দা পারভীন আক্তার বলেন, সকালে পাশের বাড়ির লোকজন ডেকে জানান ঘরে পানি ঢুকেছে। দ্রুত বের হয়ে আসি। এখন ঘরে গলা সমান পানি। একই এলাকার আব্দুল ছামাদ বলেন, সকাল ৬টার দিকে বাড়িতে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। এখনো পানি বাড়ছে। কীভাবে ঘরের জিনিসপত্র রক্ষা করব, বুঝতে পারছি না।
দীঘিনালার মেরুং, কবাখালী ও বোয়ালখালী ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলও প্লাবিত হয়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে আমন ধানের খেত। দীঘিনালা-মেরুং সড়কের কয়েকটি অংশ পানিতে ডুবে যাওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সুজিত দে বলেন, সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে দেখি রাস্তা পানিতে ডুবে গেছে। যাতায়াত করা খুব কঠিন হয়ে পড়েছে। আরেক বাসিন্দা বিটু চন্দ্র নাথ বলেন, ভোরে হঠাৎ ঘুম ভেঙে দেখি চারদিকে পানি। ঘরের অনেক জিনিসপত্র নষ্ট হয়ে গেছে।
এদিকে অতিবৃষ্টির কারণে খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা সড়কের বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনাও ঘটেছে। সড়কের ওপর মাটি ও গাছপালা পড়ে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক আনোয়ার সাদাত জানিয়েছেন, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত সহযোগিতার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।