উন্নয়নের নামে ভাঙা সড়ক, দুই বছরেও কাটেনি জনভোগান্তি

উত্তর বাড্ডার সাঁতারকুল এলাকার আলীর মোড়। এখান থেকে বেরাইদ আবদুল্লাহবাগ মোড় পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার সড়ক। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে সংস্কারকাজ।

ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়নের নামে প্রায় দুই বছর আগে কেটে ফেলা হয় সড়কটি। কিন্তু কাজ শেষ না হওয়ায় কোথাও খোঁড়াখুঁড়ি, কোথাও আবার উঁচু হয়ে রয়েছে ড্রেনের ম্যানহোল। ফলে প্রতিদিনই সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট, বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।

ভোগান্তির কথা জানিয়ে একাধিক বাসিন্দা জানান, ‘যদি রাস্তার কাজই না করে, তাহলে তো এটা ভাঙার কোনো প্রয়োজন ছিল না। আমাদের রাস্তা এদিকে খুব ভালো ছিল। এখন এতটাই অবস্থা খারাপ যে, একটার গাড়ি একটার ওপর একটা উঠে যায়, উল্টে পড়ে যাচ্ছে, দুর্ঘটনা ঘটে। খুবই কষ্টকর। এই রাস্তার জন্য বারবার এ কথা বলা হচ্ছে মনে হয় যে, এটা হবে। কবে হবে? এর কোনো নিশ্চয়তা আমরা পাচ্ছি না।’

হাঁটুসমান পানি আর কাদায় ভরা এই সড়ক এখন এলাকাবাসীর নিত্যদিনের দুর্ভোগ। সামান্য বৃষ্টিতেই পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়। ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করছে যানবাহন। প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা, আহত হচ্ছেন পথচারীরা।

পথচারীরা অভিযোগ করে বলেন, ‘যখন রিকশায় উঠি, তখন যেভাবে ঝাঁকি দেয়, মনে হয় যে শরীরের হাড্ডি-পাঁজর সব এক হয়ে যায়। একটা রোড তো মানুষের বাইপাস থাকা লাগে, মানুষের যাতায়াতের জন্য।’

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন জানায়, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণেই কাজ শেষ হতে বিলম্ব হয়েছে।

তবে অসম্পূর্ণ কাজ দ্রুত শেষ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, ‘যে সমস্ত ঠিকাদাররা ওখানে কাজ করছে, তাদেরকে আমি অফিসে ডেকেছি। কী কারণে কাজের গাফিলতি হচ্ছে, কেন জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হচ্ছে, শিডিউল ওয়ার্ক অর্ডার অনুযায়ী কাজ নির্দিষ্ট সময়ে শেষ হলো না কেন—জানার জন্য তাদেরকে ডেকেছি। আমি আশা করছি, তারা আসলে কাজগুলো দ্রুত সমাধানের একটা চেষ্টা করবে।’

উন্নয়নের নামে দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তির অবসান চান সাঁতারকুল এলাকার বাসিন্দারা। তাদের দাবি, দ্রুত সংস্কারকাজ শেষ করে নিরাপদ ও চলাচল উপযোগী করা হোক গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি।