ফিফটির পথে থাকা স্মিথকে সাজঘরে ফেরালেন মিরাজ

চাপ সামলে ক্যামেরন গ্রিনকে নিয়ে ধীরে ধীরে প্রতিরোধ গড়ে তুলছিলেন অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম ব্যাটিং স্তম্ভ স্টিভেন স্মিথ। এগিয়ে যাচ্ছিলেন ব্যক্তিগত ফিফটির পথেও। তবে তাকে মাইলফলক স্পর্শ করতে দেননি মেহেদী হাসান মিরাজ। টাইগার স্পিনারের ঘূর্ণি পড়তে ভুল করে তার হাতেই ক্যাচ তুলে দেন এ ব্যাটার।

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত দ্বিতীয় ইনিংসে ৪ উইকেট হারিয়ে স্বাগতিকদের সংগ্রহ ১২৫ রান।এখনো তারা ১০৩ রানে পিছিয়ে রয়েছে।গ্রিনকে সঙ্গ দিতে ক্রিজে এসেছেন অ্যালেক্স ক্যারি।

ডারউইনে সিরিজের প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার ১৯৮ রানের জবাবে প্রথম ইনিংসে ৪২৬ রান সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ। তাতে ২২৬ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করেছে অজিরা। এবার তাদের ক্রিজে স্বস্তি দিচ্ছেন না টাইগার পেসাররা। প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট নেয়ার পথে হাসান মাহমুদ অজিদের দুই ওপেনারকে সাজঘরে ফিরিয়েছিলেন। এবারও তার পুনরাবৃত্তি করলেন তিনি। টাইগার পেসারের গতি আর সুইংয়ে কাবু হয়ে বোল্ড হন জেক ওয়েদেরাল্ড (০) ও ট্রাভিস হেড (১৭)।

৩৭ রানের মধ্যে দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া দলকে তৃতীয় উইকেটে কিছুটা স্বস্তি এনে দিয়েছিলেন মার্নাস লাবুশেন ও স্টিভেন স্মিথ। তবে দলীয় ৭৩ রানে লাবুশেনকেও ফিরে যেতে হয় তাইজুলের ঘূর্ণিতে পর্যুদস্ত হয়ে। ৫৯ বলে ২ চারের মারে ৩১ রান করে বোল্ড হন তিনি।

এরপর ক্যামেরন গ্রিনকে নিয়ে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন স্মিথ। প্রথম ইনিংসে অজিদের হয়ে সর্বোচ্চ ৭১ রানের ইনিংস খেলা স্মিথ এবারও ফিফটির পথে এগোচ্ছিলেন। তবে মাইলফলক স্পর্শ করতে দেননি মিরাজ। নিজের বলে ডানদিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে দারুণভাবে ক্যাচ নেন টাইগার স্পিনার। তাতে ৮৮ বলে ৫ চারের মারে ৪৪ রানে থামে স্মিথের ইনিংস।

বাংলাদেশের লক্ষ্য এখন যতদ্রুত সম্ভব অস্ট্রেলিয়ার বাকি ৬ উইকেট তুলে নিয়ে জয়ের পথ সহজ করা। দেশটিতে এর আগে দ্বিপাক্ষিক সিরিজে ২ টেস্ট ও ৬ ওয়ানডে খেললেও কখনো জয়ের স্বাদ পায়নি টাইগাররা। এবার সুযোগ এসেছে সে ডেডলক ভাঙার।

এর আগে শনিবার (১৫ আগস্ট) তৃতীয় দিনে ৬ উইকেটের বিনিময়ে ৩৫১ রান নিয়ে ব্যাট করতে নেমেছিল বাংলাদেশ। এদিন তারা যোগ করেছে আরও ৭৫ রান। যেখানে বড় অবদান মেহেদী হাসান মিরাজের। ৬৫ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেছেন তিনি। তাকে সঙ্গ দিয়েছেন তাইজুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ ও এবাদত হোসেনরা।

দ্বিতীয় সেশনের প্রথম ওভারেই মিরাজের প্রতিরোধ ভাঙেন জশ হ্যাজলউড। তার বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ৬৫ রান করা মিরাজ। এই উইকেটটি ছিল হ্যাজলউডের ইনিংসে পঞ্চম। মিরাজকে ফেরানোর মধ্য দিয়ে টেস্ট ক্যারিয়ারে ৩০০ উইকেটের মাইলফলকও স্পর্শ করেন হ্যাজলউড।

শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের ইনিংস থামে ৪২৬ রানে। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে এবাদত হোসেনকে ফিরিয়েছেন হ্যাজলউড। ইনিংসে তার শিকার ৬ উইকেট।

বাংলাদেশের বড় সংগ্রহে অবশ্য অবদান রেখেছেন একাধিক ব্যাটসম্যান। তানজিদ হাসান তামিম করেছেন সেঞ্চুরি। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর ব্যাট থেকে এসেছে ৮৪ রান। মুমিনুল হকের ৪৯ ও মুশফিকুর রহিমের ৩৬ রানও ছিল গুরুত্বপূর্ণ। এরপর মিরাজের ৬৫ রানের লড়াকু ইনিংস বাংলাদেশকে চারশ পেরিয়ে নিয়ে যায়।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্টে এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। ২০০৬ সালে ফতুল্লা টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৪২৭ রান করেছিল বাংলাদেশ।