শ্রীলঙ্কা দল নাকি ‘ইউরোপ একাদশ’? সাফে বাংলাদেশ নামছে চরম সতর্কতায়!

ইংল্যান্ড থেকে সাতজন, নরওয়ে ও সুইডেন থেকে তিনজন করে, অস্ট্রেলিয়া ও জার্মানি থেকে দুইজন করে এবং সুইজারল্যান্ড থেকে একজন। ট্রান্সফারমার্কেটের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শ্রীলঙ্কা জাতীয় দলের ২৬ জনের স্কোয়াডের ১৮ জন ফুটবলারই এখন প্রবাসী। হিসাবটা অনুযায়ী লঙ্কান দলের প্রায় ৮০ শতাংশ ফুটবলারেরই জন্ম কিংবা বেড়ে ওঠা শ্রীলঙ্কায় নয়।
সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের গ্রুপ পর্বে সেই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেই খেলতে হবে বাংলাদেশকে। তাই থমাস ডুলির শিষ্যদের জন্য এই লঙ্কানরা যে একটা বড় হুমকি, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। প্রবাসীদের নিয়ে দল গড়ে সম্প্রতি ভালো পারফরম্যান্সও করছে শ্রীলঙ্কা। তবে এরপরেও লঙ্কানদের থেকে বাংলাদেশকেই এগিয়ে রাখছেন দেশের সাবেক ফুটবলাররা।
সাবেক গোলরক্ষক আশরাফুল ইসলাম রানা জানান, শ্রীলঙ্কা দলে অনেকগুলো প্রবাসী ফুটবলার থাকায় তারা নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করবে। তবে তাদের চেয়ে বাংলাদেশের বর্তমান স্কোয়াডের মান অনেক উন্নত। তাই পারফরম্যান্সের বিচারে বাংলাদেশকেই তিনি এগিয়ে রাখছেন।
একই সুর সাবেক ফরোয়ার্ড জাহিদ হাসান এমিলির গলায়। তার মতে, সাফে নিজেদের ফেভারিট মনে হলেও টুর্নামেন্টে গিয়ে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়াটা বেশ কঠিন। তবে স্বাগতিক দেশ হিসেবে বাংলাদেশ বাড়তি সুবিধা পাবে এবং বর্তমানে দলটি অত্যন্ত শক্তিশালী। হামজা, শমিত সোম, ইভেনচুয়ালি ফারহান আলী ওয়াহিদ কিংবা জায়ান হাকিমের মতো ফুটবলাররা দলে অন্তর্ভুক্ত হলে এই স্কোয়াডের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সব সক্ষমতা রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
বাংলাদেশ জাতীয় দলেও এখন অনেক প্রবাসী ফুটবলার খেলছেন, যদিও সংখ্যাটা শ্রীলঙ্কার মতো অত বেশি নয়। লাল-সবুজের জার্সিতে ৬ থেকে ৭ জন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রবাসী ফুটবলার নিয়মিত জায়গা করে নিচ্ছেন। তবে খুশির সংবাদ হচ্ছে, এই সংখ্যাটা খুব জলদিই প্রায় দ্বিগুণ হতে যাচ্ছে। ইতিমধ্যেই ফারহান আলী ওয়াহিদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বাফুফে, যাকে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের আগে সেপ্টেম্বরের উইন্ডোতেই পাওয়ার কথা রয়েছে। উল্লেখ্য, ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব ফুলহ্যামের মূল দলেও অভিষেক হয়ে গেছে তার। এছাড়াও জায়ান হাকিমের বিষয়ে ইতিবাচক সংকেত দিয়েছে বাফুফে। সেপ্টেম্বরে না পাওয়া গেলেও আগামী নভেম্বরের সাফে তাকে পাওয়ার আশা করছে ফুটবল ফেডারেশন।
এই দুই তারকা ছাড়াও আরও তিন ফুটবলারকে জাতীয় দলে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা করছে বাফুফে। বাফুফের সহ-সভাপতি ফাহাদ করিম জানান, সম্ভাব্য খেলোয়াড়দের প্রোফাইল এখন কোচ থমাস ডুলির কাছে রয়েছে। কোচ গ্রিন সিগন্যাল দিলেই সেপ্টেম্বরের উইন্ডোর জন্য তাদের ডাক দেওয়া হবে। ফারহান ও জায়ানসহ মোট পাঁচজন প্রবাসী ফুটবলার সাফের আগে ক্যাম্পে যোগ দেবেন এবং সার্বিক মান বিচারে তাদের মধ্য থেকে অন্তত চারজন মূল স্কোয়াডে জায়গা করে নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
আগামী ৪ নভেম্বর থেকে ঢাকায় শুরু হতে যাচ্ছে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। টুর্নামেন্টের সবকটি ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় স্টেডিয়ামে। বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার হাড্ডাহাড্ডি লড়াই দেখার জন্য যেমন মুখিয়ে আছেন সমর্থকরা, তেমনি ভারত ও পাকিস্তানের জমজমাট ম্যাচটি নিয়েও উত্তেজনা তুঙ্গে। মাঠের লড়াই ছাপিয়ে এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর ম্যাচ রাজনীতির মাঠেও ছড়িয়ে পড়ে। সব মিলিয়ে গ্রুপ পর্ব থেকেই এক রোমাঞ্চকর সাফ টুর্নামেন্ট উপভোগ করার অপেক্ষায় ফুটবলপ্রেমীরা।