রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে কী ভাবছেন বিরোধীদলীয় নেতারা

দেশের শাসনব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদ রাষ্ট্রপতি। তবে বিদ্যমান সংবিধান অনুসারে প্রধান বিচারপতি এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ ছাড়া খুব একটা ক্ষমতা চর্চার সুযোগ নেই রাষ্ট্রপতির।
তবে সেক্ষেত্রেও প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শের বাইরে গিয়ে একক কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের নজির নেই মহামান্যের। সেই ধারাবাহিকতায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠায় অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত ঐকমত্য কমিশনেও একমত হয় রাজনৈতিক দলগুলো।
বিরোধীদের অভিযোগ, ১২ ফেব্রুয়ারির দুই-তৃতীয়াংশ আসন থেকে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠনের পর থেকেই উল্টো পথে হাঁটতে শুরু করে বিএনপি। সরে যায় জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ঘোষণা থেকেও। এমন বাস্তবতায় আগামী ২০ আগস্ট দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে কী ভাবছে বিরোধী দল?
এমন প্রশ্নের জবাবে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, কী হবে, এটা আমরা জানি। আসলে বিএনপি থেকে যাকে নির্বাচিত করা হবে, তিনিই হবেন। নির্বাচনটা এখানে জাস্ট একটা ফর্মালিটি। কারণ দলের বাইরে ভোট দেয়ার সুযোগ নেই।
নির্বাচন ঘিরে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, কে হচ্ছেন বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি। জুলাই-পরবর্তী নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় রাষ্ট্রপতি পদে কেমন ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেওয়া উচিত, তা নিয়েও চলছে নানা আলোচনা।
রাষ্ট্রপতি কোনো দলের নন, তিনি পুরো রাষ্ট্রের—উল্লেখ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, যিনি অনেস্টলি, সিনসিয়ারলি, নিরপেক্ষভাবে রাষ্ট্রের অভিজাত দায়িত্ব পালন করতে পারবেন, রাষ্ট্রের মর্যাদা, ভাবমূর্তি জাতির সামনে, বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে পারবেন এবং দেশের উন্নতি, অগ্রগতির প্রতিও দৃষ্টি রাখতে হবে। সেই রকম রাষ্ট্রপতিই আমরা চাই।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রসঙ্গে এনসিপির মুখপাত্র আরও বলেন, ভালো হতো, যদি এই সংস্কারটি বাস্তবায়ন করে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা যেত। এখন যিনি ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি আছেন, তাকে কিছুদিন দায়িত্বে রেখে এই সংশোধনী এনে নির্বাচন করা যেত। ৩০০ জন সংসদ সদস্যের মধ্যেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা বিএনপির, তারপরও পলিসিগতভাবে আমরা একটা ডেভেলপমেন্ট করতে পারতাম।
এদিকে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সরকারি দলের মর্জির ওপর নির্ভর করে সংসদের সদস্যরাই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করেন। এটাই হলো আমাদের পদ্ধতি। নির্বাচনের ভোটার হলেন সংসদ সদস্যরা। এখন বিএনপি মহাসচিব যে বলেন, আমার স্থায়ী কমিটিতেই প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করা হবে।
আর তাই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে শুধু একটি সাংবিধানিক আনুষ্ঠানিকতা ছাড়া আর কিছু ভাবতে চাইছেন না বিরোধী দলের নেতারা।