বিমানবন্দর থেকে মোহরা পর্যন্ত মিড আইল্যান্ড সবুজে সাজানো হবে: মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন

নগরীর বিমানবন্দর থেকে মোহরা পর্যন্ত সড়কের মিড আইল্যান্ড বিভিন্ন প্রজাতির ফুল ও শোভাবর্ধনকারী গাছে সাজানো হবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। একই সঙ্গে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় নগরজুড়ে ১০ লাখ গাছ রোপণের কর্মসূচি বাস্তবায়নের কথাও জানান তিনি।

বুধবার (২৯ জুলাই) আগ্রাবাদ থেকে লালখানবাজার সড়কে চলমান বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেন মেয়র। এ সময় বন ও বস্তি উন্নয়ন কর্মকর্তা মঈনুল হোসেন আলী জয় সবুজায়ন কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কে তাকে অবহিত করেন।

পরিদর্শনকালে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ রোপণের ঘোষণা একটি দূরদর্শী ও সময়োপযোগী উদ্যোগ। দেশের প্রতিটি নাগরিক বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যায় এগিয়ে এলে একটি সবুজ, পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সহযোগিতায় নগরীতে ১০ লাখ গাছ রোপণের উদ্যোগ নিয়েছে। মোহরা থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত সব মিড আইল্যান্ডকে ফুল ও সবুজে সাজানো হবে। পাশাপাশি সড়কের সৌন্দর্যবর্ধনের পাশাপাশি নগরীর বিভিন্ন খালি জায়গা, পার্ক ও উন্মুক্ত স্থানেও ব্যাপক বৃক্ষরোপণ করা হবে।

মেয়র জানান, ইতোমধ্যে বিমানবন্দর সড়কে বিভিন্ন রঙের ফুলগাছ রোপণ করা হয়েছে। দেওয়ানহাট থেকে বারিক বিল্ডিং পর্যন্ত সড়কদ্বীপে ২৬ প্রজাতির প্রায় ৬ হাজার ৫০০টি চারা লাগানো হচ্ছে। এর মধ্যে জারুল, সোনালু, রাধাচূড়া, কামিনী, কাঞ্চন, হাসনাহেনা, গন্ধরাজ, শিউলিসহ বিলুপ্তপ্রায় দেশীয় প্রজাতির গাছ রয়েছে। এছাড়া টাইগারপাস থেকে লালখানবাজার পর্যন্ত সড়কে পাতাবাহারসহ বিভিন্ন দৃষ্টিনন্দন গাছ লাগানো হচ্ছে। রোপণ করা গাছের নিয়মিত পরিচর্যা, পানি দেওয়া ও আগাছা পরিষ্কারের ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।

বৃক্ষরোপণকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, করোনা মহামারির সময় মানুষ অক্সিজেনের গুরুত্ব নতুনভাবে উপলব্ধি করেছে। গাছ জীবন রক্ষাকারী অক্সিজেন সরবরাহের পাশাপাশি কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। তাই পরিবেশ সংরক্ষণে সবাইকে বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যায় এগিয়ে আসতে হবে।

তিনি আরও বলেন, গাছ মানুষের পরম বন্ধু। গাছ থেকে মানুষ অক্সিজেন, ফল, কাঠ ও ওষুধ পায়। তাই শুধু গাছ লাগালেই হবে না, নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমেই গাছকে টিকিয়ে রাখতে হবে।

চট্টগ্রামের প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যের কথা উল্লেখ করে মেয়র বলেন, সমুদ্র, পাহাড়, নদী, খাল, উপত্যকা ও জলাশয়ে সমৃদ্ধ এই নগরীর প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ করা সবার দায়িত্ব। যথাযথ পরিচর্যা না হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

তিনি কর্ণফুলী ও হালদা নদীসহ নগরীর খাল-জলাশয় রক্ষায় নাগরিকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, যত্রতত্র প্লাস্টিক, পলিথিন ও অন্যান্য বর্জ্য ফেলার কারণে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে এবং জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। এসব বর্জ্য শেষ পর্যন্ত খাল-নদীতে গিয়ে জমা হয়ে পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি তৈরি করছে। তাই পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও বাসযোগ্য চট্টগ্রাম গড়ে তুলতে সবার সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।