বাঁশখালীতে বন্যার পানিতে ৭ দিন ধরে পানিবন্দি দুই লক্ষাধিক মানুষ, চরম মানবিক সংকট

টানা পাঁচ দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার সরল, বাহারছড়া, কাথরিয়া, খানখানাবাদ, শেখেরখীল, ছনুয়া, পুঁইছড়ি (আংশিক), চাম্বল (আংশিক) ও বৈলছড়ি (আংশিক) ইউনিয়নের দুই লক্ষাধিক মানুষ সাত দিন ধরে পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বন্যায় সহস্রাধিক মানুষ গৃহহারা হয়েছেন।

দুর্গত এলাকার অধিকাংশ মানুষ আশ্রয়কেন্দ্র কিংবা স্বজনদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে সরকারি-বেসরকারি সংস্থা, রাজনৈতিক দল ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ত্রাণের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। অন্যদিকে, যেসব পরিবার এখনো পানিবন্দি ঘরে অবস্থান করছে, তারা বিশুদ্ধ পানি ও পর্যাপ্ত খাদ্যের সংকটে ভুগছেন। চাল, ডাল ও জ্বালানির অভাবের পাশাপাশি পানিবাহিত নানা রোগও দেখা দিচ্ছে।

শেখেরখীল ইউনিয়নের বাসিন্দা নুরন্নাহার জানান, অসুস্থ স্বামী ও চার সন্তানকে নিয়ে ঘরের ভেতরে মাচা তৈরি করে দিন কাটাচ্ছেন। স্থানীয় যুবকদের দেওয়া খিচুড়ি ও পানি ভাগাভাগি করে খেয়ে বেঁচে আছেন। তবে অনেক ত্রাণ তাদের কাছে পৌঁছায়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, স্মরণকালের ভয়াবহ এ বন্যায় উপজেলার আঞ্চলিক ও অভ্যন্তরীণ সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক এলাকায় যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় কোমরসমান পানি কিংবা সাঁতরে দুর্গত মানুষের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দিতে হচ্ছে। দুর্গম এলাকায় ত্রাণ পৌঁছাতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, উপজেলা প্রশাসন এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন কাজ করছে।

এদিকে, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিয়া, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ এবং আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন মানবিক সংগঠন বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন ও ত্রাণ বিতরণ করেছেন।

বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রহুল আমিন জানান, আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে নিয়মিত খাবার ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী ইউনিয়নভিত্তিক ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করে সার্বক্ষণিক ত্রাণ কার্যক্রম ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ চলছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি দল উদ্ধার ও ত্রাণ বিতরণে সহায়তা করছে। তিনি বলেন, ধীরে ধীরে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।