চায়না মেরিটাইম ফোরামে বাংলাদেশের সামুদ্রিক মানবসম্পদ উন্নয়নের অগ্রগতি তুলে ধরা হলো

দেশ বর্তমান ডেস্ক: চীনের ইয়াংঝৌ শহরে অনুষ্ঠিত চায়না মেরিটাইম ফোরাম ২০২৬ এবং ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন শিপ টেকনোলজি অ্যান্ড সেফটি ২০২৬-এ অংশগ্রহণের মাধ্যমে বৈশ্বিক মানসম্পন্ন সামুদ্রিক মানবসম্পদ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অগ্রগতি ও অঙ্গীকার তুলে ধরা হয়েছে।

চায়না মেরিটাইম ডে উপলক্ষে ১০ ও ১১ জুলাই অনুষ্ঠিত এ আন্তর্জাতিক আয়োজনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সামুদ্রিক খাতের নীতিনির্ধারক, নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ, শিল্প বিশেষজ্ঞ এবং খাতসংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দ বৈশ্বিক সামুদ্রিক শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে মতবিনিময় করেন।

বাংলাদেশের চার সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশ মেরিন একাডেমির কমান্ড্যান্ট ক্যাপ্টেন কাজী এ. বি. এম. শামীম। প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যরা হলেন নৌপরিবহন অধিদপ্তরের কন্ট্রোলার অব মেরিটাইম এডুকেশন ক্যাপ্টেন সাঈদ আহমেদ, ন্যাশনাল মেরিটাইম ইনস্টিটিউট চট্টগ্রামের অধ্যক্ষ ক্যাপ্টেন আতাউর রহমান এবং ন্যাশনাল মেরিটাইম ইনস্টিটিউট, মাদারীপুরের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নৌপ্রকৌশলী মোহাম্মদ শহিদ উল্লাহ।

সম্মেলনে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের প্রধান হিসেবে ক্যাপ্টেন কাজী এ. বি. এম. শামীম একটি মূল প্রবন্ধ (কীনোট প্রেজেন্টেশন) উপস্থাপন করেন। তিনি ফোরামের প্রতিপাদ্য ‘স্মার্ট, গ্রিন ও ইন্টেলিজেন্ট শিপিংয়ের জন্য দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা’-এর আলোকে বাংলাদেশের সামুদ্রিক শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নের বিভিন্ন সাফল্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের সামুদ্রিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাকে আধুনিকায়নের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ নাবিকদের ব্যবহারিক দক্ষতা, ডিজিটাল জ্ঞান এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কাজ করা হচ্ছে।

এদিকে, নৌপরিবহন অধিদপ্তরের কন্ট্রোলার অব মেরিটাইম এডুকেশন ক্যাপ্টেন সাঈদ আহমেদ সামুদ্রিক মানবসম্পদ উন্নয়নবিষয়ক একটি উচ্চপর্যায়ের প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন। তিনি বিভিন্ন দেশের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সামুদ্রিক প্রশাসনের চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা, দক্ষ জনবল উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিনির্ভর বৈশ্বিক শিপিং শিল্পের জন্য উপযুক্ত মানবসম্পদ তৈরির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।

চায়না মেরিটাইম ফোরামের পাশাপাশি বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন শিপ টেকনোলজি অ্যান্ড সেফটি ২০২৬-এও অংশ নেয়। সেখানে জাহাজ প্রযুক্তির সর্বশেষ উদ্ভাবন, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, পরিবেশগত টেকসই উন্নয়ন, উদ্ভাবন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিষয়ে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিশেষজ্ঞ ও অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় করা হয়।

ফোরামে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল বৈশ্বিক সামুদ্রিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অবদান এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন দক্ষ নাবিক সরবরাহকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের শক্তিশালী অবস্থান তুলে ধরে। একই সঙ্গে সামুদ্রিক শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি বিনিময় এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়, যাতে আন্তর্জাতিক শিপিং শিল্পে আরও বেশি সংখ্যক বাংলাদেশি নাবিকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক আয়োজনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ দেশের সামুদ্রিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা এবং বৈশ্বিক সামুদ্রিক খাতে একটি উদীয়মান ও দায়িত্বশীল সামুদ্রিক রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।