চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত| তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের সব বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে| দুর্গত মানুষের যেকোনো প্রয়োজনে সরকার সব ধরনের সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে|
গতকাল সোমবার চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার কেঁওচিয়া ইউনিয়নে বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন এবং ত্রাণ বিতরণকালে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন| এ সময় তিনি অসহায় মানুষের পাশে থাকার সরকারি প্রতিশ্রুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন| পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী কেঁওচিয়া ইউনিয়নের দুর্গত বাসিন্দাদের কাছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে সালাম ও শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন| বিগত এক সপ্তাহ ধরে চলমান বন্যা পরিস্থিতিতে জনগণের ভোগান্তির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা জানি গত সাত দিন যাবত আপনারা অনেক কষ্টের মধ্যে দিন পার করছেন| সৃষ্টিকর্তার দরবারে প্রার্থনা করি যেন এই কষ্টের দিন দ্রুত শেষ হয়| আমি প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই-প্রতিটি দুর্গত, কষ্টে থাকা ও নিরন্ন মানুষের কাছে ইনশাআল্লাহ সরকার খাবার পৌঁছে দেবে|’
শুধু জরুরি ত্রাণ ব্যবস্থাপনাই নয়, বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসনের বিষয়েও সরকারের বিস্তারিত পরিকল্পনার কথা জানান অনিন্দ্য ইসলাম অমিত| তিনি বলেন, বন্যার পানি কমে যাওয়ার পর যাদের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেগুলো মেরামতের খরচ সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া হবে| এর পাশাপাশি যেসব কৃষকের ফসলের খেত নষ্ট হয়েছে, মাছের ঘের ভেসে গেছে কিংবা গবাদি পশুর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তারা যেন ক্ষতি পুষিয়ে দ্রুত ¯^াভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন, সেজন্য সরকারের তরফ থেকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে|
দুর্যোগের প্রথম দিন থেকেই স্থানীয় প্রশাসন সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, উপজেলা ও জেলা প্রশাসন এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য প্রথম থেকেই দুর্গত মানুষের কষ্ট লাঘবে মাঠে কাজ করছেন| এই ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রমের গতি বাড়াতে এবং আরও সুসমš^য় নিশ্চিত করতেই তিনি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সরাসরি দুর্গত এলাকায় এসেছেন| দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে ত্রাণ পৌঁছানোর ক্ষেত্রে সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন প্রতিমন্ত্রী| দুর্গত এলাকায় যাতায়াতে সহায়তার জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং হেলিকপ্টারে করে বিপন্ন মানুষের দোরগোড়ায় খাবার পৌঁছে দেওয়ার জন্য বিমান বাহিনীকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি|
ত্রাণ বিতরণ ও পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন আহমেদ, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, উপজেলা ও পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ|
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সাতকানিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ায় চরম খাদ্য ও পানীয় জলের সংকট দেখা দিয়েছিল| সরকারের উচ্চপর্যায়ের এই পরিদর্শন এবং পুনর্বাসনের আশ্বাস বন্যাকবলিত মানুষের মাঝে কিছুটা ¯^স্তি ফিরিয়ে এনেছে|