খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলায় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বরাদ্দকৃত চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ ওঠেছে|
ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের মানবিক সহায়তার বরাদ্দকৃত চালের পরিবর্তে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে ৭ থেকে ৯ হাজার টাকা করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) এস এম এ করিমের বিরুদ্ধে| ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রামগড় উপজেলার জন্য ১২ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয় জেলা প্রশাসন| গত ১৫ জুন সরকারি-বেসরকারি এতিমখানা, লিল্লাহ বোর্ডিং, অনাথ আশ্রম, বৃদ্ধাশ্রমসহ বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জন্য রামগড় উপজেলায় ১০ মেট্রিক টন এবং পৌরসভার জন্য ৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়|
বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য মানবিক সহায়তা হিসেবে এ চাল বরাদ্দ দেয় জেলা প্রশাসন| অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবরে বরাদ্দ পাওয়া ২৭টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নামে মোট ২৭ মেট্রিক টন চাল ছাড় করা হলেও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো চালের পরিবর্তে নগদ টাকা পেয়েছে| এর মধ্যে ১২টি মসজিদ ও নূরানি মাদ্রাসাকে ৯ হাজার টাকা, ১০টি মন্দির ও বৌদ্ধবিহারকে ৭ হাজার টাকা এবং একটি মাদ্রাসাকে ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে| রামগড় পৌরসভার তালিমুল কুরআন নূরানি মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের মাদ্রাসার নামে এক মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ ছিল| কিন্তু চালের পরিবর্তে আমাদের একজন শিক্ষককে ৯ হাজার টাকা দিয়েছেন পিআইও |’ বালুখালীর বাহারুল উলুম ইসলামিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার সভাপতি ওসমান গণি, বলিটিলা তালিমুল কুরআন মাদ্রাসার সভাপতি আবু বক্কর এবং সোনাইআগা কালী মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি ধনঞ্জয় ত্রিপুরা জানান, বরাদ্দকৃত চালের পরিবর্তে ৭ থেকে ৯ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে| তবে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এস এম এ করিম এসব অভিযোগ অ¯^ীকার করেছেন | এ বিষয়ে রামগড় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী শামীম বলেন, ‘বিষয়টি আরও খতিয়ে দেখা হচ্ছে| প্রাথমিক তদন্তে পিআইওর সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে| তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে|’