সীতাকুণ্ডের শিশু ইরা মনি হত্যা মামলার রায় আজ

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের আট বছর বয়সী জান্নাতুল নেসা ওরফে ইরা মনিকে গলা কেটে হত্যা মামলার রায় ঘোষণার জন্য আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দিন ধার্য করেছেন আদালত| চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক জান্নাতুল ফেরদৌস গত বৃহস্পতিবার যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে রায় ঘোষণার এ দিন নির্ধারণ করেন| অভিযোগ গঠনের পর মাত্র ১০ কার্যদিবসে মামলাটি রায় ঘোষণার পর্যায়ে পৌঁছেছে| মামলার একমাত্র আসামি ৪৫ বছর বয়সী বাবু শেখ গত ৩০ জুন আদালতে সাফাই সাক্ষ্য দেন| এর আগে ছয় কার্যদিবসে ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়| ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী আব্বাস হোসেন বলেন, গত বৃহস্পতিবার যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে আদালত আজ মঙ্গলবার রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেছেন| গত ১ মার্চ সীতাকুণ্ড ইকো-পার্ক এলাকায় ধর্ষণচেষ্টার পর শিশু ইরাকে ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা করে আসামি বাবু শেখ| চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশু ইরার মৃত্যু হলে ৩ মার্চ দুপুরে সীতাকুণ্ড উপজেলার কুমিরা এলাকা থেকে আসামি বাবু শেখকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ| তিনি সীতাকুণ্ডে ইরা মনিদের পরিবারের পাশের ঘরে ভাড়া থাকতেন| তার বাড়ি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মধ্যম পুলুপাড়া এলাকায়| নিহত ইরা মনি স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল| তার বাবা মনিরুল ইসলাম পেশায় একজন টমটমচালক| বাড়ি সীতাকুণ্ড উপজেলার ছোট কুমিরা মাস্টারপাড়ায়|
এ ঘটনায় ইরা মনির মায়ের করা মামলার তদন্ত শেষে গত ১১ জুন আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ| ১৮ জুন অভিযোগ গঠন করা হয়| এরপর ২১ জুন থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়|
ঘটনার পর সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রামের তৎকালীন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খান জানান, ইরা মনির বাবা মনিরুল ইসলামের সঙ্গে বিরোধের জেরে বাবু শেখ শিশুটিকে হত্যার পরিকল্পনা করেন| পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তিনি ইরাকে ফুসলিয়ে পাহাড়ে নিয়ে যান| সেখানে প্রথমে ধর্ষণের চেষ্টা করেন এবং পরে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা চালান| সেদিন দুপুরে সড়ক সংস্কার কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা পাহাড়ে গলা কাটা অবস্থায় ইরা মনিকে দেখতে পান| পরে তারা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা ¯^াস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান| সেখান থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩ মার্চ তার মৃত্যু হয়|
পুলিশ জানান, জিজ্ঞাসাবাদে বাবু শেখ ¯^ীকার করেন, পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে তিনি শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন এবং ছুরি দিয়ে তার গলা কেটে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান|