মাগুরার সাবেক পৌর প্রশাসকের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগকে কেন্দ্র করে শহরজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি স্থানীয় একটি অনলাইন পোর্টালে তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই অভিযোগভিত্তিক সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে মাঠে নামে প্রতিনিধি।
প্রকাশিত সংবাদের সূত্রে জানা যায়, আলাউদ্দিন শেখ ও মনোয়ার নামের দুই ব্যক্তি বর্তমান প্রশাসকের কাছে একটি অভিযোগপত্র জমা দেন। এতে সাবেক পৌর প্রশাসকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার দাবি করা হয়। এ ঘটনায় শহরজুড়ে আলোচনা চললেও অভিযোগের স্বপক্ষে কোনো দৃঢ় প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
অভিযোগপত্রে কবিরুল ইসলাম ও মোহন মিয়ার নাম উল্লেখ করে কয়েকটি অসংগতি তুলে ধরা হয়। অভিযোগে বলা হয়, সাবেক পৌর প্রশাসক আব্দুল কাদের দায়িত্বে থাকাকালে পৌর ভবন সংস্কার ও মেরামতের জন্য বরাদ্দ ২৫ লাখ টাকা কাজ না করেই আত্মসাৎ করেছেন। পাশাপাশি পৌরসভার যানবাহনের তেল উত্তোলনের প্রায় ২৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগও আনা হয়। এমনকি সন্ধ্যায় পৌর ভবনে অনৈতিক সময় কাটানোর দাবিও করা হয় এবং ভিডিও ফুটেজ থাকার কথাও উল্লেখ করা হয়।
তবে সরেজমিন অনুসন্ধানে এসব অভিযোগের স্বপক্ষে দৃশ্যমান প্রমাণ মেলেনি। জানা যায়, গত অর্থ বছরে নিয়ম মেনে ২৪ লাখ টাকার দরপত্র আহ্বান করা হয় এবং কাজটি পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রাজমীর এন্টারপ্রাইজ। বরাদ্দকৃত অর্থে পৌর ভবনের সংস্কার কাজ হয়েছে বলেও দেখা গেছে। প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী রাজমীর হোসেন জানান, সাবেক পৌর প্রশাসক সংস্কার কাজের অগ্রগতি নিয়মিত তদারকি করতেন এবং তার সময়ে বিলের চেক পেতে কোনো বাড়তি খরচ ছিল না। তিনি বলেন, “কাজ না করলে পৌরসভায় আমার সিকিউরিটি মানি কীভাবে পড়ে আছে?” যানবাহনের তেল উত্তোলন সংক্রান্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখতে গিয়ে মেসার্স মা ফাতেমা ফিলিং স্টেশনের বিল-ভাউচার ও রেজিস্টারে ১১টা যানবাহনের নম্বর, জ্বালানির পরিমাণ ও টাকার হিসাব পাওয়া যায়, যার সঙ্গে পৌরসভার লগবইয়ের তথ্যের মিল রয়েছে। ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার জানান, সাবেক প্রশাসকের নির্দেশেই প্রতিটি গাড়ি পাম্পে এনে তেল নেওয়ার নিয়ম ছিল। এছাড়া ফগার মেশিনেও সরাসরি তেল দেওয়া হতো, কোনো পাত্রে তেল দেওয়ার অনুমতি ছিল না।
অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ভিডিও থাকার দাবি যাচাই করতে দায়িত্বকালীন পাঁচ দিনের সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ধারণকৃত ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়। সেখানে প্রশাসকের উপস্থিতির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অভিযোগকারী হিসেবে উল্লেখিত কলেজ পাড়ায় কবিরুল ইসলামের সন্ধান না পেয়ে কবিরুল আলম নামে একজনকে পাওয়া গেলেও তিনি বিষয়টি সম্পর্কে কিছু জানেন না বলে জানান। সাতদোয়া পাড়ায় মোহন মিয়ার খোঁজ না মিললেও মোহন মোল্ল্যা নামের এক ব্যক্তি জানান, তিনি অনলাইনে সংবাদটি দেখেছেন, তবে অভিযোগ সম্পর্কে তার জানা নেই।
মাগুরা প্রেসক্লাবের সভাপতি অধ্যাপক মো. সাইদুর রহমান বলেন, তথ্য-প্রমাণ ছাড়া সংবাদ প্রকাশ করলে পেশাগত দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠে এবং এতে একজন কর্মকর্তার কর্মজীবন ও পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সাবেক পৌর প্রশাসক ও বর্তমানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. আব্দুল কাদের বলেন, “সে সময়ে যা করেছি নিয়ম মেনে ও স্বচ্ছতার সঙ্গে করেছি। পৌর নাগরিকদের গুণগত সেবা নিশ্চিত করতে দায়িত্ব পালনে কারও সঙ্গে আপোষ করিনি।” ফলে কেউ আমার উপর অসন্তুষ্ট থাকতে পারেন। বর্তমান পৌর প্রশাসক (উপসচিব) ইমতিয়াজ হোসেন জানান, অভিযোগপত্রটি তার কাছে অপ্রয়োজনীয় মনে হয়েছে, ঊর্ধ্বতন নির্দেশনা ছাড়া এ বিষয়ে তদন্ত সম্ভব নয়। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. আব্দুল কাদের মাগুরা পৌরসভার প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ২০২৫ সালের ৯ নভেম্বর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।