বিশ্বকাপ ফুটবলের মাঠে বাংলাদেশ না থাকলেও, গানের মাধ্যমে বিশ্বকাপের মঞ্চে দেশের নাম তুলে ধরেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তরুণ ডিজে ও মিউজিক প্রডিউসার সঞ্জয় দেব। কানাডার টরন্টোর বিএমও ফিল্ডে গত শুক্রবার বাংলাদেশ সময় রাত ১১টা ৩০ মিনিটে তার নজরকাড়া পরিবেশনা উপভোগ করেছে গোটা বিশ্ব। বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করার ধরনটিও ছিল বেশ ব্যতিক্রমী।
সঞ্জয় বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশকে পরিচয় করিয়ে দিতে একটি অনন্য ধারণা বেছে নেন। আর সেটি ছিল তার পরা জ্যাকেট। লাল-সবুজ পতাকা, রয়েল বেঙ্গল টাইগার এবং শাপলা ফুলের নকশায় তৈরি লাল রঙের একটি জ্যাকেট পরেছিলেন তিনি। যদিও বিশ্বকাপের মঞ্চে বাংলাদেশের জার্সি পরে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তার। তবে দেশকে ভিন্নভাবে তুলে ধরতে নিজের টিমের সঙ্গে আলোচনা করে এই সৃজনশীল ধারণা বের করেন সঞ্জয়। জেসমিন প্যাটেলের স্টাইলিংয়ে পোশাকটির নকশা করেছেন ছায়া কুমার এবং এমব্রয়ডারির দায়িত্বে ছিলেন জন কিম।
সম্প্রতি বিশ্বমঞ্চে ভিন্নভাবে বাংলাদেশকে উপস্থাপন করা নিয়ে এক সাক্ষাৎকার দেন সঞ্জয়। এক্ষেত্রে ফিফার কেমন সহযোগিতা পেয়েছিলেন এই প্রশ্নে সঞ্জয় বলেছেন, ‘ ফিফা থেকে অনেক ভালো সাপোর্ট পেয়েছি। তারা বেশ সাহায্য করেছে । তারা আমার গল্প ভালবেসেছে, তারা আমাদের দেশের মানুষদের ভালবাসে।’
বিশ্বকাপের মঞ্চে কীভাবে পৌঁছালেন—এই প্রশ্নের জবাবে সঞ্জয় বলেছেন, ‘আমরা একটা গান বানাতে চেয়েছিলাম। আর তখনি আমার সাথে নোরার সাথে পরিচয় হয়। তখন আমরা তিতিমা গানটা করছিলাম। নোরা আমার কাছে জানতে চায় আমি কেমন ধরণের গান পছন্দ করি ।তখন আমি জানাই স্পোর্টস এন্থেম আমার বেশ ভালো লাগে । সব শুনে নোরা বলে আমরা তো বিশ্বকাপের জন্য গান বানাতে পারি, সেখান থেকেই শুরু। আমরা ফিফার জন্য গান বানাই ,তাদেরকে পাঠাই এবং ফিফা এটা বেশ পছন্দ করে।’ এভাবেই শুরু হয় তার বিশ্বমঞ্চে যাত্রা।
বাংলাদেশের কোনো অনুষ্ঠানে তাকে দেখা যাবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে সঞ্জয় বলেছেন, ‘ অবশ্যই, আমি সব সময় বাংলাদেশকে সাপোর্ট করতে চাই। আমি বাংলাদেশেকে বিশ্বের বেস্ট যায়গায় নিয়ে যেতে চাই।’
আর্জেন্টিনা নাকি ব্রাজিল এই প্রশ্ন করা হলে সঞ্জয় তা খুব কৌশলে এড়িয়েও যায়। কারণ নিজের ফ্যানদের মাঝে বিভেদ তৈরি করতে রাজি নন তিনি।
বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করার পর দেশের ভক্তদের ভালোবাসায় সিক্ত সঞ্জয়। সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সঞ্জয় জানিয়েছেন, সবাইকে সঙ্গে নিয়ে একসঙ্গে এগিয়ে যেতে চান তিনি ।
বিশ্বমঞ্চ থেকে শুরু হওয়া এই যাত্রা সঞ্জয়কে তার স্বপ্নপূরণের আরও কাছাকাছি নিয়ে যাক—এটাই প্রত্যাশা।