নতুন করে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, ‘কঠোর শাস্তি’র ঘোষণা তেহরানের

মার্কিন হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে জর্ডানে ‘ভারী’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। একইসঙ্গে উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশে ইরানি ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
আইআরজিসি জানিয়েছে, জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটি এবং সেখানে থাকা একটি মার্কিন মেরিন ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ভারী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় বেসামরিক মানুষ নিহত হওয়ার প্রতিক্রিয়ায় এ হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কঠোর জবাবের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে হামলা-পাল্টা হামলা শুরুর পর দেওয়া প্রথম বার্তায় তিনি বলেন, ওয়াশিংটনের জন্য ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর কাছে ‘ভুলে যাওয়ার নয় এমন শিক্ষা’ রয়েছে।
অন্যদিকে, ইরানি ড্রোন হামলার মুখে কুয়েত ও বাহরাইন নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করেছে। কুয়েত জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী ড্রোন হামলা প্রতিহত করতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। বাহরাইনও জানিয়েছে, তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আকাশপথে আসা ইরানি ড্রোন শনাক্ত করে সফলভাবে ধ্বংস করেছে।
এর আগে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, ১ সেপ্টেম্বর ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। ইরান বাণিজ্যিক জাহাজ ও মার্কিন সেনাসদস্যদের ওপর হামলার চেষ্টা করেছিল-এমন অভিযোগের পর এসব হামলা চালানো হয় বলে দাবি করেছে ওয়াশিংটন।
এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। আসালুয়েহ, জিরোফট, বন্দর আব্বাস, কেশম দ্বীপ, কোনারাক, চাবাহার, জাস্ক, সিরিক ও লাভানসহ বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।
সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলাগুলোর একটি হয়েছে সিরিকে। ইরানের রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, সেখানে একটি বিয়ের অনুষ্ঠান চলাকালে একটি বাড়িতে হামলা হয়। এতে অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে। আহত হয়েছেন ৫০ জনের বেশি।