সদরঘাটের পন্টুনে বাচ্চা প্রসব করলেন এক নারী

রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালের একটি পন্টুনে সন্তান প্রসব করেছেন নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার এক নারী। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ৩টার দিকে পন্টুনের মেঝেতেই জন্ম নেয় নবজাতকটি।
বিরল এই ঘটনার পর প্রসূতি ও নবজাতকের সহযোগিতায় এগিয়ে আসেন সদরঘাট নৌ পুলিশের সদস্যরা।
রাত ৩টায় লঞ্চ টার্মিনালের পন্টুনে মানুষের ব্যস্ততা কিছুটা কমে এলে হঠাৎ শিশুর কান্নার শব্দ শোনা যায়। পরে জানা যায়, পন্টুনেই সন্তান প্রসব করেছেন রাবেয়া নামে এক নারী।
রাবেয়া নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার বাসিন্দা এবং চার সন্তানের মা। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, মধ্যরাতে তার প্রসববেদনা শুরু হলেও তাকে হাসপাতালে নেয়ার সুযোগ হয়নি। পরে পন্টুনেই পরিবারের সদস্যদের সহায়তায় তার সন্তান প্রসব হয়।
প্রশিক্ষিত ধাত্রী, চিকিৎসক বা নার্সের উপস্থিতি ছাড়াই খোলা পন্টুনে সন্তান জন্ম দেয়ার ঘটনাটি অনেকের কাছেই ছিল বিস্ময়কর। প্রসবের পর মা ও নবজাতকের সহযোগিতায় এগিয়ে আসেন সেখানে দায়িত্ব পালনরত নৌ পুলিশের সদস্যরা।
সদরঘাট নৌ পুলিশের সহকারী উপপুলিশ পরিদর্শক ফিরোজ আহমেদ ও আব্দুল্লাহ আল মামুন ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিবারটিকে সহযোগিতা করেন।
জন্মের পরপরই নবজাতকের নাম রাখা হয় ‘জাহিদ হাসান’। শিশুটির নানী তার নাম ঠিক করেন। সদরঘাটের পন্টুনেই পৃথিবীর আলো দেখা জাহিদ হাসানের জন্মের ঘটনাটি এখন পরিবারের কাছে যেমন স্মরণীয়, তেমনি সদরঘাটের কর্মরত মানুষদের কাছেও হয়ে উঠেছে ব্যতিক্রমী এক অভিজ্ঞতা।
তবে পন্টুনে সন্তান জন্ম দেয়ার এই ঘটনা একই সঙ্গে প্রশ্ন তুলেছে অসহায় ও দরিদ্র পরিবারের মাতৃস্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপদ প্রসবের সুযোগ নিয়ে। হাসপাতালের পরিবর্তে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে সন্তান জন্ম দিতে বাধ্য হওয়া এই পরিবারের মতো আরও কত মানুষ নিরাপদ প্রসবসেবা থেকে বঞ্চিত-সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে।