চট্টগ্রামের সাহিত্য ও সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষের অন্যতম পরিচিত স্থান ডিসি হিলকে আরও নান্দনিক ও আধুনিকভাবে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের ব্যবহারে ডিসি হিলের বিভিন্ন স্থাপনা জীর্ণ হয়ে পড়েছে। সেগুলো সংস্কারের পাশাপাশি পুরো এলাকাকে নান্দনিকভাবে সাজানোর কাজ করছে জেলা প্রশাসন। এর অংশ হিসেবে কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতিবিজড়িত পুরোনো মঞ্চকে নতুন রূপ দেওয়া হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে চট্টগ্রাম ডিসি হিলের নজরুল স্কয়ারে নজরুল মুক্তমঞ্চের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের অর্থায়নে ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে এ মুক্তমঞ্চ নির্মাণ করা হবে।
জেলা প্রশাসক বলেন, “ডিসি হিলকে আরও সুন্দরভাবে সাজানোর জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটিকে আধুনিকায়নের লক্ষ্যে নতুনভাবে রূপ দেওয়ার কাজ চলছে। ইতোমধ্যে ডিসি হিলের নজরুল স্কয়ারও সম্প্রসারণ ও সৌন্দর্যবর্ধন করা হয়েছে।”
কাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে ডিসি হিলের স্মৃতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ১৯২৬ সালে নজরুল চট্টগ্রামে এসে ডিসি হিলে অবস্থান করেছিলেন। ১৯২৬ থেকে ২০২৬—এই ১০০ বছরে সেই স্মৃতিকে অম্লান করে রাখতে এবং নজরুল চর্চার সুযোগ বাড়াতে মুক্তমঞ্চ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, কবি নজরুলের সাম্য, মানবিকতা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে। বৈষম্যহীন ও মানবিক সমাজ গড়তে নজরুলকে শুধু স্মরণ করলেই হবে না, তাঁর আদর্শ ও মূল্যবোধ ধারণ করতে হবে।
জেলা প্রশাসক বলেন, নজরুল ধর্ম-বর্ণের বিভেদের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের মিলন ও সম্প্রীতির কথা বলেছেন। তিনি যেমন ইসলামী সংগীত রচনা করেছেন, তেমনি শ্যামাসংগীতও লিখেছেন। তাঁর সাহিত্য ও সৃষ্টিতে বিভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষের সহাবস্থানের বার্তা রয়েছে। অন্যায়, বৈষম্য ও অসাম্যের বিরুদ্ধে দাঁড়াতেও তাঁর লেখনী মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে।
নজরুলের আপসহীনতার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও কবি নিজের বিবেক ও মূল্যবোধের সঙ্গে আপস করেননি। কোনো কিছুর কাছে তাঁর বিবেক পরাজিত হয়নি। পরাজিত বিবেক দিয়ে কোনো কিছু অর্জন করা সম্ভব হলেও সেই অর্জন দীর্ঘস্থায়ী হয় না।
তরুণ প্রজন্মের প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক বলেন, মেধা ও দক্ষতার পাশাপাশি তরুণদের মানবিক মূল্যবোধ ও বিবেকবোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা প্রয়োজন। নজরুলের জীবন ও সাহিত্য নতুন প্রজন্মকে সেই শিক্ষা দিতে পারে।
নির্মাণকাজ শেষ হলে নজরুল মুক্তমঞ্চে নজরুলের সাহিত্য, সংগীত ও দর্শন নিয়ে নিয়মিত চর্চার পাশাপাশি বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজন করা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। এর মাধ্যমে শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীরা চর্চার সুযোগ পাবেন এবং নতুন প্রজন্মও নজরুল সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হবে বলে জানান জেলা প্রশাসক।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার ইখতিয়ার উদ্দিন আরাফাত ও মুক্তমঞ্চের নকশা ডিজাইনার স্থপতি প্রণব মিত্র।
এ সময় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের উপপরিচালক (স্থানীয় সরকার) গোলাম মাঈনউদ্দিন হাসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এলএ) মো. কামরুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হকসহ জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা উপস্থিত ছিলেন।