চট্টগ্রামের পাঁচলাইশে ব্যবসায়িক পাওনা টাকা আদায়ের জেরে এক গ্যারেজ ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে একটি চক্র। এ ঘটনায় অপহৃত ব্যবসায়ী মো. হেলাল উদ্দিনকে মিরসরাইয়ের জোরারগঞ্জের মহামায়া লেক এলাকার বন বিভাগের পরিত্যক্ত কটেজ থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ সময় অপহরণকারী চক্রের মূলহোতাসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে পাঁচলাইশ থানা পুলিশ।
পুলিশ জানায়, হেলাল উদ্দিন পাঁচলাইশ থানার শুলকবহর রওশন বোর্ডিংয়ের পাশে একটি গাড়ির গ্যারেজ পরিচালনা করেন। গ্রেপ্তার আবুল হাশেম তার পূর্বপরিচিত ও ব্যবসায়িক অংশীদার। ব্যবসায়িক অংশীদার হিসেবে আবুল হাশেম বিভিন্ন সময়ে হেলালের ব্যবসায় ৯ লাখ ৩০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করেন। এর মধ্যে ৪ লাখ ৬১ হাজার টাকা পরিশোধ করা হলেও ৪ লাখ ৬৯ হাজার টাকা পাওনা ছিল। এ টাকা আদায় নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ৭ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে আবুল হাশেমসহ ৭-৮ জন একটি সাদা মাইক্রোবাসে করে শুলকবহর রওশন বোর্ডিংয়ের সামনে গিয়ে হেলালকে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়।
পরদিন ৮ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টার দিকে হেলালের মোবাইল ফোন থেকে তার স্ত্রী জেসমিন আক্তারের মোবাইলে ফোন করে অপহরণকারীরা ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। টাকা না দিলে হেলালকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। পরে একই নম্বর থেকে ফোন করে এক লাখ টাকা পাঠাতে বলা হয়।
এ ঘটনায় জেসমিন আক্তার বাদী হয়ে পাঁচলাইশ থানায় মামলা করেন। মামলায় দণ্ডবিধির ৩৬৫, ৩৮৫, ৫০৬ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।
পুলিশ জানায়, মামলার তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৯ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে আকবরশাহ থানার উত্তর কাট্টলী এলাকায় অভিযান চালিয়ে শান্ত মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পাঁচলাইশের মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে মামলার এজাহারনামীয় আসামি আবুল হাশেমকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আকবরশাহর লতিফপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে আকরামকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে হেলালের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের দাবি, শান্ত ও আকরামকে জিজ্ঞাসাবাদে হেলালকে মহামায়া লেক এলাকায় আটকে রাখার তথ্য পাওয়া যায়। পরে মিরসরাই ও জোরারগঞ্জ থানা পুলিশের সহায়তায় মহামায়া লেকের ভেতরে বন বিভাগের একটি পরিত্যক্ত কটেজে অভিযান চালিয়ে হেলালকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে মঈন উদ্দিন রায়হান, আমজাদ হোসেন, মাহবুব রহমান, মানিক হোসেন ও ফারুককে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পেরেছে, আবুল হাশেম ও আকরাম পাওনা টাকা উদ্ধারের উদ্দেশ্যে শান্ত মিয়াকে এক লাখ টাকা দেওয়ার কথা বলে এবং অন্যদের ভাড়া করে হেলালকে অপহরণ করে। আকরাম আবুল হাশেমের মেয়ের স্বামী।
গ্রেপ্তার আটজনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছে পুলিশ।