চট্টগ্রাম মহানগরীর চান্দগাঁওয়ে প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাতে মোহাম্মদ সাকিব হত্যা মামলায় এজাহারনামীয় ১, ২ ও ৩ নম্বর আসামিসহ মোট ৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৭, চট্টগ্রাম। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি দেশীয় তৈরি চাইনিজ কুড়াল ও একটি সুইচ গিয়ার ছুরিও উদ্ধার করা হয়েছে।
র্যাব জানায়, গত ২০ আগস্ট সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টা ২৫ মিনিটে চান্দগাঁও থানার মোহরা কামাল বাজার এলাকার লায়লা কমিউনিটি সেন্টারের সামনে সাকিবকে বহনকারী ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার গতিরোধ করে একদল দুর্বৃত্ত। পরে তাকে অটোরিকশা থেকে নামিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করা হয়।
গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা সাকিবকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
র্যাব আরও জানায়, ঘটনার প্রায় ৮-১০ দিন আগে মোবাইল ফোন নেওয়াকে কেন্দ্র করে সাকিবের সঙ্গে মামলার প্রধান আসামি মো. ইমনের বিরোধ সৃষ্টি হয়। এর জের ধরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে ২১ আগস্ট চান্দগাঁও থানায় তিনজন এজাহারনামীয় ও ৬-৭ জন অজ্ঞাতনামা আসামির বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি দণ্ডবিধির ১৪৩/৩৪২/৩০২/৩৪ ধারায় করা হয়।
এরপর র্যাব-৭-এর একটি দল ২৩ আগস্ট চট্টগ্রাম জেলা ও মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার পলাতক ৮ আসামিকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তাররা হলেন— মো. ইমন (২২), মো. রায়হান (২৫), মো. শাহেদ সালমান (২২), মোহাম্মদ হোসেন (২২), হাসান মোহাম্মদ রবিউল (২১), মো. সাকিব হোসেন (১৮), মো. আছমান (২৩) ও মো. ফয়সাল (২৩)।
অভিযানকালে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি দেশীয় তৈরি চাইনিজ কুড়াল ও একটি সুইচ গিয়ার ছুরি উদ্ধার করা হয়।
র্যাব জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের এবং উদ্ধার করা আলামতের বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।