ওয়াসার ৫০০ কিলোমিটার খোঁড়াখুঁড়ি, উন্নয়ন প্রকল্পে নগরজুড়ে জনদুর্ভোগ

ওয়াসার উন্নয়ন প্রকল্প এখন নগরবাসীর আতঙ্কের নাম। বর্ষা ঘনিয়ে আসতেই মাঠে নেমেছে তারা। ইতোমধ্যে ঢাকা স্যানিটেশন ইমপ্রুভমেন্ট প্রকল্পের আওতায় দুই সিটিকরপোরেশনমিলিয়ে প্রায় ৫০০ কিলোমিটারের বেশি সড়ক কাটতে যাচ্ছে ঢাকা ওয়াসা।
খিলগাঁওয়ের সিপাহীবাগ টেম্পোস্ট্যান্ড এলাকা। ব্যস্ত সড়কের মাঝখানেই খোড়া হয়েছে গর্ত। চারপাশ টিন দিয়ে ঘেরা। বন্ধ প্রায় সব ধরনের যান চলাচল।
এক অবস্থা নবাববাড়ী মোড়েও। তবে এখানে কোনো রাখঢাক নেই। খোলা এই গর্তে পড়ে নিয়মিতই আহত হচ্ছেন পথচারী। জীবনের ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করছেন স্থানীয়রা।
গত রমজানের আগে থেকেই বন্ধ রাস্তা। একদিন শ্রমিক এলে, পরের দশ দিনই বন্ধ কাজ। রাতে অল্প বিস্তর আনাগোনা থাকলেও দিনে দেখা মেলে না ঠিকাদারের। কাজ কবে শেষ হবে জানেন না কেউ, বসানো হয়নি কোনো সাইনবোর্ডও।
স্থানীয় এলাকাবাসীরা জানান, ঠিকমতো কাজ হয় না। একদিন বা পাঁচ দিন কাজ করার পর আবার দীর্ঘ সময় কোনো কাজই হয় না। এর মধ্যে বৃষ্টি হলে সড়ক পানিতে তলিয়ে যায়। রাস্তার একটি অংশ দুই মাস ধরে কাটা রয়েছে, অন্য আরেকটি অংশটি প্রায় এক বছর ধরে একই অবস্থায় পড়ে আছে। এক বছর পার হলেও কাজ শেষ হয়নি। এ অবস্থায় বৃষ্টি হলেই সড়কে পানি জমে যায়, ফলে মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে।
অন্য এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, জায়গায় জায়গায় গর্ত করে রাখা হয়েছে। নির্মাণসামগ্রীও যেখানে-সেখানে ফেলে রাখা হয়েছে। কিন্তু কাজের কোনো অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।
এসব অভিযোগ নিয়ে জানতে ঢাকা ওয়াসায় যোগাযোগ করা হলে চিরাচরিত সেই দায় এড়ানোর চেষ্টা করেন ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিনুল ইসলাম।
এ বিষয়ে তিনি বলেন, এই প্রকল্পের অধিকাংশ অর্থই বৈদেশিক উৎস থেকে এসেছে এবং কন্ট্রাক্টরও বিদেশি। আন্তর্জাতিক টেন্ডারের মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আমরা চেষ্টা করছি দ্রুত কাজ শেষ করতে। আমরা খুব দ্রুততার সঙ্গে একটু একটু করে এলাকায় কাটব। ওখানেই আবার দ্রুত কাজ করব। সময় যেন দুই দিনের বেশি না থাকে।
ওয়াসা ব্যবস্থাপনা পরিচালকের এই আশ্বাস যে শুধু কথার কথা, তার প্রমাণ মিলেছে মাঠেই। তবে এই পুরো প্রকল্প ও জনদুর্ভোগের বিষয়টি নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম।
দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ইমারজেন্সি পানির জন্য এই কাজ করছেন তারা। সামনের দিনগুলোতে আমরা সমন্বয় করার চেষ্টা করবো, এখনও করছি। কিছু কিছু ইমারজেন্সি ভিত্তিতে কাজ থাকে, সেগুলো করতে হবে। কিছু করার থাকে না। মানুষ পানি না খেয়ে তো মরতে পারে না। সেই কারণেই এই কাজটা করা। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক ব্যাপার। এরকম কোনো বিষয় যদি থেকে থাকে, সেটা ওয়াসার সঙ্গে আমি একটু কথা বলে জানতে পারব।
উন্নয়নের নামে এমন সমন্বয়হীন খোঁড়াখুঁড়ি আর কতদিন সইবেন নগরবাসী? আশ্বাস আর বাস্তবতার এই ফারাক ঘুচবে কবে- এখন সেই প্রশ্নের জবাব খুঁজছেন নগরবাসী।